সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দুলাভাই বাহিনীর এক সদস্য নিহত, আটক ৩
আরিফ হাসান রামপাল বাগেরহাট প্রতিনিধি
Update Time :
Sunday, June 28, 2026
/
25 Time View
/
Share
সুন্দরবনের গহীনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় বাহিনীর প্রধানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, বনজীবী ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন থেকে দুই দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কুখ্যাত দুলাভাই বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ানের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে ডাকাতদের বহনকারী দুটি নৌযানকে থামার সংকেত দিলে তারা কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি নৌযান পুড়ে যায় এবং অপরটি ডুবে যায়।
বন্দুকযুদ্ধ শেষে বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও সদস্য শওকত সরদারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বাহিনীর আরেক সদস্য ইসরাফিল হাওলাদারকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করা অস্ত্র ও আলামতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কয়রা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পাশাপাশি পলাতক অন্যান্য দস্যুদের গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বনজীবী ও জেলেদের দাবি, দুলাভাই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সশস্ত্র দস্যুতার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে।