
দেশজুড়ে কালবৈশাখীর মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকি ও প্রাণহানি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল সারা দেশে বজ্রপাতে ১৪ জন এবং পরদিন আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের পাঁচ বছরেই মারা গেছেন ১ হাজার ৭৪৬ জন। গত এক দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত মোট মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ঘটেছে বজ্রপাতে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বজ্রপাতের অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বড় গাছপালা নিধন এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক স্থাপনার প্রভাবেও ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষক, জেলে ও মাঠে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন, কারণ তাদের অনেক সময় নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ থাকে না।
এ অবস্থায় বজ্রপাতের সময় সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে দ্রুত দালান বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থান এড়িয়ে চলা, বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। এছাড়া ঝড়ের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং বাড়ির জানালা-দরজা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নতুন ভবনে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বজ্রপাতে কেউ আহত হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমেই বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।