
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে চলমান নির্মাণ ও সংস্কার কাজের কারণে ইতোমধ্যে ধীরগতির যান চলাচল শুরু হয়েছে। এতে ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট ও দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলায় বিভিন্ন স্থানে সড়কের একাংশ বন্ধ বা সরু লেন দিয়ে যান চলাচল করছে। বিশেষ করে কাঁচপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত অংশে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সামান্য দুর্ঘটনা বা কোনো যানবাহন বিকল হলেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক সময়ে ৫-৬ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে বর্তমানে ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবস্থাও প্রায় একই রকম। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত অংশে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে প্রায়ই ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দি, নিমসার, ইলিয়টগঞ্জ ও পদুয়ার বাজার এলাকায় স্থানীয় বাজার বসায় মহাসড়কে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।
এদিকে মহাসড়কে অবৈধ তিন চাকার যানবাহন চলাচল এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোর প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের অনিয়মে প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
যাত্রীদের মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও পরিবহন মালিক সমিতি ভাড়া না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, তবে অতীত অভিজ্ঞতায় অনেকেই আশ্বস্ত নন। অভিযোগ রয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে কিছু পরিবহন কৃত্রিম টিকিট সংকট তৈরি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করে থাকে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়কে সরকারের সরাসরি নজরদারি জরুরি। তারা ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর তদারকি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং চলমান সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় কিছুটা চাপ থাকবেই বলে স্বীকার করেছেন তারা।