
“দুর্নীতির তালাশ টিম” নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের কখনও সাংবাদিক, কখনও অনুসন্ধানী টিমের সদস্য, আবার কখনও প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রবাসী পরিবার ও সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা দাবি করছে। কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা কিংবা প্রশাসনিক ঝামেলায় ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, চাকরি পাইয়ে দেওয়া, মামলা থেকে রেহাই, অনলাইন নিউজ প্রকাশ বন্ধ রাখা, এমনকি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানী কার্যক্রমের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের অপকর্ম শুধু গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে না, বরং প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতিও মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। ফলে প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীরাও নানা প্রশ্ন ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কেউ সাংবাদিক, গোয়েন্দা বা অনুসন্ধানী টিমের পরিচয়ে অর্থ দাবি করলে বা ভয়ভীতি দেখালে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অর্থ লেনদেন না করার এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।