
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের লালকুড়া এলাকার কাঠের ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বৃষ্টি ও জিনজিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোত এবং উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানার চাপে ব্রিজটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে যেকোনো সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালকুড়া, বকবান্দা নামাপাড়া, বকবান্দা ব্যাপারীপাড়া, দুবলাবাড়ি, পূর্ব দুবলাবাড়ি, ঝাউবাড়ি, খেওয়ারচর, আলগারচর, লাঠিয়ালডাঙা ও বিকরিবিলসহ অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ এই ব্রিজের ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই কাঠের ব্রিজটি।
এর আগে যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরবেশ আলীর উদ্যোগে ব্রিজটি সংস্কার করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজটির অবস্থা আবারও নাজুক হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জরুরি মেরামত কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিজটির দুরবস্থার কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। লালকুড়া এলাকার কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “খেতের ভুট্টা বিক্রির জন্য বাজারে নিতে পারছি না। ব্রিজ ভেঙে গেলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।”
একই এলাকার বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, “আমার মেয়ে অসুস্থ। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি স্থায়ী পাকা ব্রিজ হলে আমাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক)-এর প্রতিনিধি মাহবুব আলম জানান, সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে ব্রিজটি পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত লালকুড়া এলাকায় একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক।