ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সিয়ামের ওপর ভয়াবহ হামলা ও চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টার ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই নৃশংস হামলার পর ভুক্তভোগীর মায়ের কান্নাজড়িত আহাজারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনতা। ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী সিয়ামের মা লাকী বেগম হাসপাতালের বিছানায় ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার দুইটা মেয়েই জন্মপ্রতিবন্ধী। এই ছেলেটাই ছিল আমার সংসারের একমাত্র ভরসা। ওকে যারা এভাবে শেষ করে দিল, আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই।”
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে ১ নম্বর আসামি সাজিদের নেতৃত্বে একদল যুবক সিয়ামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড, কাঠের লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত সাজিদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে সিয়ামের মুখমণ্ডলে আঘাত করলে তার বাম চোখের নিচে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অপর এক অভিযুক্ত কাঠের লাঠি দিয়ে তার চোখে আঘাত করলে চোখটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, হামলার সময় সিয়ামের পকেট থেকে নগদ টাকা ও একটি স্মার্টফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাকে উদ্ধার করতে গেলে তার স্বজনদেরও ধাওয়া দেওয়া হয়।
বর্তমানে আহত সিয়াম গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার চোখ ও শরীরে গুরুতর আঘাত থাকায় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিয়ামের মা। তিনি জানান, মামলা তুলে না নিলে আরও ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে পরিবারকে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত সাজিদসহ বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পুলিশ বলছে, জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, একজন কলেজছাত্রের ওপর এমন নৃশংস হামলা সমাজে চরম নিরাপত্তাহীনতার বার্তা দিচ্ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।