
রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া হত্যা মামলায় পরকীয়া সম্পর্কের জের ও অর্থনৈতিক বিরোধকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয় নগর এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি তার বোন শিল্পী আক্তারের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮) গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। পরে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন, যেখানে তার প্রেমিকা তাসলিমার বড় বোন হেলেনা বেগম বসবাস করতেন।
এরপর ১৭ মে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা এলাকার একটি ভবনের নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররম মিয়ার বলে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে তিনি তার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর ওই অর্থ ফেরত চাওয়া ও বিয়ের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
ডিএমপি জানায়, ঘটনার পর তাসলিমা, তার বোন হেলেনা বেগম এবং হেলেনার মেয়ে হালিমা আক্তার মিলে মোকাররমকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা একটি শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে পালিয়ে যান।
এর আগে র্যাব এ ঘটনায় হেলেনা বেগম ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। পরে হেলেনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।