June 28, 2026, 2:01 pm
শিরোনাম :
পাগলির মেলা: শত বছরের ঐতিহ্যে ইতিহাস, বিশ্বাস ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মিলন ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল নারীর, আহত আরও দুই নওগাঁর আম এবার যুক্তরাষ্ট্রে, বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার কালীগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কথিত ভিডিও ঘিরে আলোচনা, তদন্তের দাবি ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: গণধোলাই দিয়ে ধর্ষক পুলিশে সোপর্দ,  বিশেষ অভিযানে রামপালে যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার শ্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে অনশন, কেন্দুয়ায় আলোচনায় তরুণীর অবস্থান সীমান্তবর্তী দৌলতপুরে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য দেশে গাঁজা ব্যবহারে উদ্বেগ, তরুণদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বাড়ছে রাজধানীর শাহবাগে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

ফিটনেসবিহীন বাসে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, জবির পরিবহন খাতে মাসে ব্যয় অর্ধকোটি টাকা

অভয়নগর প্রতিবেদক

ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ বিআরটিসি বাসে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। একদিকে বাসের নাজুক অবস্থা, অন্যদিকে পরিবহন খাতে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৪৩টি বাস ও মাইক্রোবাস রয়েছে। এসব যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ব্যয় হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে বিআরটিসির ১২টি বাস পরিচালনায় প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে আরও ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। দিন, কিলোমিটার ও আসনসংখ্যার ভিত্তিতে বিআরটিসিকে এ অর্থ পরিশোধ করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ বিআরটিসি বাসের ফিটনেস সনদের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলাচল করতে না পারলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
সরেজমিনে বিভিন্ন বাস ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাসের জানালার কাচ ভাঙা, সিট নড়বড়ে, ফ্যান বিকল এবং দোতলায় ওঠার সিঁড়ি ও হাতল ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও সিট থেকে পেরেক বের হয়ে আছে। বৃষ্টির সময় বাসের ভেতরে পানি ঢুকে সিট ভিজে যায় বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
মিরপুর রুটের ‘অনির্বাণ’ বাসের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বাসগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। মাঝেমধ্যে রাস্তায় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। সিট ও জানালার অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে অনেক সময় ঝুলে যাতায়াত করতে হয়।”
‘কালিগঙ্গা’ বাসের এক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাসের কয়েকটি ফ্যান নষ্ট থাকায় গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে ‘প্রজন্ম-২’ বাসের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নতুন ব্যাচ যুক্ত হওয়ার পর বাসে জায়গা সংকট আরও বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর জানায়, প্রতিদিন মোট ১০৮টি ট্রিপ পরিচালিত হয়। এছাড়া অতিরিক্ত চারটি বাস রিজার্ভ রাখা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ জন স্থায়ী চালক ও কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক চালক কর্মরত আছেন।
জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ খান বলেন, “ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে রয়েছে। কল্যাণপুর ডিপোর পরিবর্তে মতিঝিল ডিপো থেকে তুলনামূলক ভালো বাস আনার চেষ্টা চলছে।”
এ বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক ড. তারিক বিন আতিক বলেন, “শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি গাড়ি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।” তবে বিআরটিসি বাসের ফিটনেস বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল বন্ধ করে নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।



ফেসবুক কর্নার