সরাইলে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ, বিচারের অপেক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার
অভয়নগর প্রতিবেদক
Update Time :
Sunday, May 24, 2026
/
25 Time View
/
Share
??????????????
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে (১৫) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই কিশোরী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে চরম অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারটি।উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের অভিযোগ, ইসলামাবাদ গ্রামের বিনু মিয়ার ছেলে ইয়ামিন (২২) প্রথমে জোরপূর্বক এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা ও ভয়ে কিশোরী বিষয়টি প্রথমে পরিবারের কাউকেই জানায়নি।একপর্যায়ে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেলে, অভিযুক্ত ইয়ামিন তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু কিশোরী তাতে রাজি না হওয়ায় ইয়ামিন তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে কিশোরী তার পরিবারকে সবকিছু খুলে বলে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর দাদী রূপবানু বেগম আক্ষেপ করে বলেন আমরা গরিব মানুষ। নাতনির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে সে সবকিছু খুলে বলে। ওর পেটে এখন পাঁচ মাসের বাচ্চা। ইয়ামিন আমার নাতনির জীবনটা শেষ করে দিল।
কিশোরীর মা আফরোজা বেগম বলেন, ইয়ামিনরা গ্রামের প্রভাবশালী ও বড় গোষ্ঠীর লোক। আর আমাদের মাথা গোঁজার ঠিকঠাক ঠাঁই পর্যন্ত নেই। বিয়ে ছাড়াই আমার শিশু মেয়ের গর্ভে এখন পাঁচ মাসের সন্তান। আমরা এই অন্যায়ের উপযুক্ত বিচার চাই।ভুক্তভোগীর বাবা বিল্লাল মিয়া জানান, ঘটনাটি জানার পর তিনি স্থানীয় সর্দার ও মাতব্বরদের কাছে গিয়ে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় সমাজপতিরা সাফ জানিয়ে দেন—এই বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই। বিল্লাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামাজিকভাবে বিচার না পেয়ে আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু আমরা গরিব, পদে পদে টাকার কাছে হেরে যাচ্ছি। আমার মেয়ের জীবনটা নষ্ট হয়ে গেল, অথচ এখনো কোনো ন্যায়বিচার পাচ্ছি না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইসলামাবাদ গ্রামে ইয়ামিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্বজনরা জানান, ইয়ামিন বর্তমানে কুমিল্লায় একটি সেলুনে কাজ করে। ধর্ষণের অভিযোগ ও কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়ামিনের পরিবার জানায়, তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে বার্তা দিয়েছেন—সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হয় যে সন্তানটি ইয়ামিনের, তবেই তারা বিষয়টি সমাধানের চিন্তাভাবনা করবেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই-এর সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মাহবুব হোসেন জানান, তিনি সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে এসেছেন। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসেনি। অধিকতর তদন্ত শেষে যথাসময়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে দরিদ্র পরিবারটি সামাজিক হেনস্তা থেকে রক্ষা পায় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।