June 24, 2026, 4:27 am
শিরোনাম :
হ্যাটট্রিকের আশায় রোনালদো, বড় লিড নিয়ে বিরতিতে পর্তুগাল আ. লীগের পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার একযোগে ১৬ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র নোয়াখালীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: ৫ লাখ ৭৬ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি মৃত্যুই আমাদের সবার শেষ গন্তব্য: পিয়া জান্নাতুল জুয়া প্রতিরোধে সংসদে বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড জলবায়ু অর্থায়ন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয় পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ যোগ্যরা বঞ্চিত, সুবিধা পাচ্ছেন অযোগ্যরা; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের অপপ্রচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জজুড়ে বিএনপির বিক্ষোভ

খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় গরু ডুমুরিয়ার ‘রাজা মানিক’ বিক্রি হবে ১২ লাখে

শেখ নাসির উদ্দীন, খুলনা:

 

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার এক গ্রামীণ খামারে এখন প্রতিদিন উৎসবের আমেজ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শত শত মানুষ ভিড় করছেন বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়কে একনজর দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকছেন গরুটির দিকে।

তবে শুধু বিশাল দেহই নয়, মানুষের কথা বুঝে দাঁত দেখানোর অদ্ভুত অভ্যাসের কারণেও গরুটি এখন ব্যাপক আলোচনায়। “রাজা মানিক, দাঁত দেখাও”—এই কথা বললেই মুহূর্তে দাঁত বের করে দেয় ষাঁড়টি। আর সেই দৃশ্য ঘিরেই দর্শনার্থীদের মাঝে তৈরি হয় আনন্দ ও কৌতূহল। স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থীরাই আদর করে গরুটির নাম দিয়েছে “রাজা মানিক”।

ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মিনু সাহার খামারে বেড়ে ওঠা এই বিশাল ষাঁড়টি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় পাঁচ বছর ধরে সন্তানের মতো যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে গরুটিকে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন একনজর দেখতে।

খামার মালিক মিনু সাহা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি গরুটিকে “মানিক” বলে ডাকতেন। পরে এলাকার শিশু-কিশোররা নামের আগে “রাজা” যোগ করলে সেটিই জনপ্রিয় হয়ে যায়।

খামারে গিয়ে দেখা যায়, গরুটিকে ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহের শেষ নেই। কেউ উচ্চতা মাপছেন, কেউ শরীরের দৈর্ঘ্য নিয়ে আলোচনা করছেন। আর দাঁত দেখানোর দৃশ্যটি মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করতে ব্যস্ত সবাই।

মিনু সাহা বলেন,
“আমি কখনো ক্ষতিকর ফিড খাওয়াইনি। ছোটবেলা থেকে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করেছি। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক খাবার দিয়েই এত বড় হয়েছে।”

তিনি জানান, প্রতিদিন গরুটিকে কুঁড়ির ভাত, ভুট্টার গুঁড়ো, গমের ভুষি, খৈল, কাঁচা ঘাস, খড় ও বিভিন্ন ফলমূল খাওয়ানো হয়। শরীর ঠিক রাখতে মাঝে মধ্যে সামান্য লবণও দেওয়া হয়।

গরুটির জাত সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি ফ্রিজিয়ান জাতের। বাড়ির পুরোনো গাভীর বংশ থেকেই এর জন্ম। কয়েক মাস আগে গরুটির মাকে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

এলাকাজুড়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা গরুটির ওজন নিয়ে। কেউ বলছেন ৩৫ মণ, কেউ ৪০ মণ, আবার কেউ ৪৮ মণ পর্যন্ত ধারণা করছেন। তবে মিনু সাহার দাবি, “রাজা মানিক”-এর ওজন প্রায় ৪৫ মণের কাছাকাছি।

তিনি আরও বলেন,
“এত বড় শরীর নিয়ে ওর চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়। শুয়ে পড়লে উঠতে সময় লাগে। কিছুদিন আগে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথাও পেয়েছিল।”

বর্তমানে গরুটির জন্য খামারের ভেতরে আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। মানুষের ভিড় বাড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এখন গলায় রশি ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে বিশাল এই গরুটিকে ঘিরে রয়েছে কিছু আক্ষেপও। মিনু সাহার অভিযোগ, গত বছর ১২ লাখ টাকায় বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেও স্থানীয় একটি দালালচক্রের অপপ্রচারের কারণে সেই বিক্রি ভেস্তে যায়।

তিনি বলেন,
“কিছু লোক গিয়ে ক্রেতাকে বলেছিল আমি নাকি ২৫ লাখ টাকা চাইছি। পরে তারা আর গরু নিতে আসেনি। এতে আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

বর্তমানে প্রতিদিন গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানান মিনু সাহা। গত এক বছরে অতিরিক্ত প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারপরও তিনি ১২ লাখ টাকার নিচে গরুটি বিক্রি করতে রাজি নন।

খামারে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসছেন “রাজা মানিক” দেখতে। বগুড়া, যশোর, সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা গরুটিকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।

বগুড়া থেকে আসা হাফিজুর রহমান বলেন,
“টেলিভিশনে বড় গরু দেখেছি, কিন্তু সামনে থেকে এত বড় গরু কখনো দেখিনি।”

টিএমএসএস-এ কর্মরত রায়হান খন্দকার বলেন,
“দাঁত দেখাতে বললে সত্যিই দাঁত বের করে দেয়—এটা খুব অবাক করার মতো বিষয়।”

সাতক্ষীরা থেকে আসা অরুণ সরকার বলেন,
“নেটে অনেক বড় গরুর ছবি দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে এত বড় গরু এই প্রথম দেখলাম।”

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বড় গরুর বাজারে যখন প্রতিযোগিতা তুঙ্গে, তখন ডুমুরিয়ার “রাজা মানিক” হয়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী আকর্ষণ। বিশাল আকৃতি, মানুষের কথা বুঝে দাঁত দেখানোর অভ্যাস এবং এক খামারির দীর্ঘদিনের শ্রম ও ভালোবাসার গল্প মিলিয়ে গরুটি এখন পুরো অঞ্চলের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।



ফেসবুক কর্নার