
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাঁইসাড়া গ্রামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে ঘিরে মব সৃষ্টি এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই ফাঁকা চেক ও নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে মব তৈরি করে পুলিশের সামনেই ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি আসাদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক লোকজন জড়ো হয়। খবর পেয়ে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একটি দল সেখানে পৌঁছায়।
অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করার পরিবর্তে পুলিশের উপস্থিতিতেই তার বাড়ি থেকে চেক বই আনা হয়। পরে কয়েকটি ফাঁকা চেক ও নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। রাতের দিকে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
আসাদুল ইসলাম বলেন, “আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল চাপ সৃষ্টি করছিল।”
তিনি জানান, স্থানীয় একটি মাছচাষ প্রকল্পে তিনি আগে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। প্রায় নয় মাস আগে হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে দায়িত্ব ছাড়েন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান সরদার বলেন, “যা হয়েছে, পুলিশের সামনেই হয়েছে।”
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল মান্নান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। মবের মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।