চলতি বছরের মধ্যেই দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য মিড ডে মিল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান সরকার শিশুদের শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে এই ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা স্কুলে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের আমলের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার (ড্রপ আউট) হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং শিশুদের শিক্ষার অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিনামূল্যে বা সাশ্রয়ী মূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। এরপরপরই চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারা দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে মিড ডে মিল চালু করা হবে, যা শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষায় তাদের নিয়মিত উপস্থিতিও নিশ্চিত করবে।
শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও আনন্দময় করে তোলার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শুধু বইয়ের পাতায় বন্দি না রেখে খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রমের অংশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন কোনো মানসিক চাপ ছাড়া, হাসতে হাসতে এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ খুদে ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা জোগানে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আজকের এই শিশুরাই সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে আগামী দিনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে। খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন অনুষ্ঠানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন একটি আধুনিক ও বৈশ্বিক মানে রূপান্তর করতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজেদের মেধা ও পছন্দ অনুযায়ী বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নিজের আগ্রহের জায়গায় নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই শিক্ষাখাতে আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে।
মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা স্কুলে আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই নতুন ঘোষণাগুলোকে স্বাগত জানিয়ে উপস্থিত অভিভাবকেরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, মিড ডে মিল ও স্কুল ড্রেসের মতো উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটোই আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পাবে।