ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার ভৈশামুড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ব-০৫-০০৫৫) এবং ঢাকাগামী একটি মালবাহী পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ড-১১-৬৪৫০) ভৈশামুড়া এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে। অন্যদিকে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন—
স্থানীয়রা জানান, নিহত আরশ আলী মুন্সি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। মৌসুমী দাস চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাচ্ছিলেন। শিশু আলিফ হাসান স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং অথবা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৈশামুড়া এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তারা দ্রুত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কার্যকর ট্রাফিক নজরদারি, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।