দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি হাকিমপুর প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান রানার সহধর্মিণী।
জানা যায়, প্রতিদিনের মতো নিজের মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে সিএনজিযোগে বাড়ি ফিরছিলেন সেলিনা আক্তার। এ সময় বিরামপুর-ফুলবাড়ী সড়কের টাটাকপুর গ্রামের পাশে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও শিক্ষানুরাগী শিক্ষক হিসেবে তিনি এলাকায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তার আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল।
এদিকে এই দুর্ঘটনা আবারও বিরামপুর-ফুলবাড়ী-হাকিমপুর সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একটি পরিবারের স্বপ্ন ও নিরাপত্তা মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে একটি দুর্ঘটনায়। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে আর কোনো পরিবার এভাবে প্রিয়জন হারিয়ে অসহায় ও শোকাহত না হয়।
সেলিনা আক্তারের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, শিক্ষা অঙ্গনেরও অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন তার সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।