September 6, 2026, 9:26 am

ঋতাভরীর মন্তব্যে ফের যৌন হেনস্তা নিয়ে আলোচনা

অভয়নগর প্রতিবেদক

কলকাতার বিনোদন জগতে কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা ও ‘মি টু’ আন্দোলন নিয়ে ফের সরব হয়েছেন অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন অনিয়ম ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ঋতাভরী জানিয়েছেন, সঠিক বিচার ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কথা বলে যাবেন। কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি নাম উল্লেখ না করে দুই প্রভাবশালী প্রযোজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পিটিশন জমা দেন বলে জানান অভিনেত্রী।
কেন এতদিন নীরব ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ঋতাভরী বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি অনেক বেশি ভীত ছিলেন। অভিযোগ করলে উল্টো তাঁকেই দোষারোপ করা হতে পারে কিংবা কাজ হারানোর আশঙ্কা ছিল। তবে সে সময়ের কথিত ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলেও জানান। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে অন্যায় বা যৌন হেনস্তার চেষ্টা হলে তিনি আর নীরব থাকবেন না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাউকে হেয় করার বা বিচার করার জায়গা হিসেবে ব্যবহারের পক্ষপাতী নন তিনি। অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় বিচার হওয়া উচিত বলেও মত দেন অভিনেত্রী।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন ঋতাভরী। কেরালার হেমা কমিটির প্রতিবেদনের আদলে বাংলার চলচ্চিত্রশিল্পেও কাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। পরে নবান্নে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর দাবি, ওই বৈঠকে বিচারপতি, পুলিশ, আইনজীবী ও মনস্তত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। টলিউডে নিরাপত্তা ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে নির্দেশিকা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। ঋতাভরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের কাছেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন জমা দিয়েছেন। ২০০৯ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ মেগার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী পরবর্তী সময়ে ‘বহুরূপী’, ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ ও ‘ফাটাফাটি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।



ফেসবুক কর্নার