
অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দিলে পরিস্থিতি ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। বিশেষ করে ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি-ভিডিও, কিংবা কারও সম্মানহানি হয় এমন কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বা আদান-প্রদান করলে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬, দণ্ডবিধি বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় অভিযোগ হতে পারে। আইনজীবী ইশরাত হাসানের মতে, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া বা তা দিয়ে কাউকে হেয় করলে আইনি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, কারও ছবির সঙ্গে মানহানিকর ক্যাপশন বা বক্তব্য যুক্ত করলেও তা আইনি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ছবি ধারণ করে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ প্রচার করা মানহানিকর ও সাইবার অপরাধের বিষয় হতে পারে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কোনো ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা মানসম্মান ক্ষুণ্ণ হলে বিষয়টি আইনের আওতায় আসতে পারে। একইভাবে আসল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করাও শাস্তিযোগ্য হতে পারে।
তবে অনুমতি ছাড়া ধারণ করা প্রতিটি ছবি বা ভিডিওকে একইভাবে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না। দুর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ বা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ হিসেবে জনস্বার্থে ছবি-ভিডিও প্রকাশ করা হলে আদালত এর উদ্দেশ্য, জনস্বার্থ ও ক্ষতির বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। আইনজীবীরা বলেন, পাবলিক প্লেসে ছবি তোলা মানেই সেখানে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার শেষ হয়ে যায় না। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফৌজদারি বা দেওয়ানি আইনে প্রতিকারের সুযোগ থাকতে পারে।