
স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট ৩২০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একটি ক্রয়চুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘ডেইলি ওয়াদা’র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডিইডব্লিউ) মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তির অর্থের বড় অংশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ভাইপো ও ভাইঝির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গত ২৩ আগস্ট সমাজসেবা অধিদপ্তর ৬৬ হাজার ৮১৫টি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট সরবরাহে ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকার চুক্তি করে। পরদিন দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চুক্তি করে ডিইডব্লিউ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিমূল্যের ৪ শতাংশ বা প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা কমিশন হিসেবে রাখবে ডিইডব্লিউ। যন্ত্রাংশ আমদানির জন্য ‘স্যালেক্সট্রা লিমিটেড’ পাবে ১৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কর ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদে অবশিষ্ট অর্থ যাওয়ার কথা ‘বুরাক ব্রেক লিমিটেডে’, যার মালিক মন্ত্রীর ভাইপো সরদার রাফিন এস এ হোসেন ও ভাইঝি অনিকা রাইদা লিয়া। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি। এতে আরও দাবি করা হয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই ডিইডব্লিউকে দুটি চুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় পূর্বানুমোদনের প্রমাণ সরকারি নথিতে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘বুরাক ব্রেক লিমিটেড’ সম্পর্কে তিনি জানেন না এবং তাঁর পরিবারের কেউ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। তবে ভাইপো ব্যবসা করলে আইন মেনে তা করার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মন্ত্রণালয় নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়। শিপইয়ার্ড অভ্যন্তরীণভাবে কাকে দিয়ে কাজ করাবে, সেটি তাদের এখতিয়ার।