March 6, 2026, 12:54 am
শিরোনাম :

বাংলা সাহিত্য সংকলন

অভয়নগর প্রতিবেদক

১ ধূসর স্মৃতি 
কাজী নাজরিন 

স্মৃতিতে আলপনা এঁকেছি নিখুঁতভাবে 
মুছে ফেলা সম্ভব নয়, শুধু তাই নয় 
স্পর্শ করার কারো সুযোগ নেই 
আলপনায় রয়েছে মনে মনে
মিতালী বেঁধে সুখে থাকার 
স্বপ্ন ও শান্তির আভাস 
স্মৃতির আলপনায় 
ঝাপসা কিছু নেই
ধূসর স্মৃতি!

২ মায়াবী সন্ধ্যা 
শাকেরা বেগম শিমু

দূর দিগন্তে রবি ডুবে যাচ্ছে আর-ঘণিয়ে আসছে ভেজা সন্ধ্যা,
পাখিগুলো নিজেদের নীড়ে ফিরে যাচ্ছে, বাতাস বইছে মৃদুমন্দা।
এমন দিনে কার কথা মনেপড়ে গো, কোন দেশের অচেনা সে একজন,
আজ দখিনাহাওয়া সব বইছে অনুকূলে, ক্ষণে ক্ষণে শিহরিত হয় মন।

রক্তলাল সে রবি, রাঙিয়ে দিচ্ছে সবই, মায়াবী সে স্বর্ণালী আচলে,
মন্দমধুর সেই দখিনাহাওয়া আজ কানে কানে কার কথা যায় বলে!
স্বর্ণালী এ আভা, কতো যে মনলোভা, তাকিয়ে থাকি দূর দিগন্তে,
যেখানে গগণ এসে, মাটির সাথে মিশে, মিলিয়ে গেছে কোন অনন্তে।

ফুটেছে যূথীর ফুল,সৌরভে মন আকুল, সোনালী রৌদ্র মেখে হাসছে,
সুনীল ঐ গগণে ছেড়াছেড়া মেঘগুলো শুভ্র তুলোর মতো ভাসছে।
দূরে লালশিমুল আর দখিনাহাওয়ায় মিলে মনোরম এ গোধূলির লগ্ন,
রাখালেরা গরু নিয়ে,আপন আলয়ে গিয়ে- নিদ্রায় হয়ে গেছে মগ্ন।

তিমির ফেলেছে ছায়া, ঘিরে আসে কালো মায়া, প্রশান্তি নেমে আসে মনে,
হুক্কাহুয়া রবে শিয়ালেরা ডেকে যায় গাঁয়ের পাশের ঝাউবনে।
হাঁসমুরগী যার খোয়াড়ে ঢুকে পড়ে- তারাও নিচ্ছে সুখে বিশ্রাম,
গাঁয়ের চাষী-কুলি ঘরে ফিরে আসছে-শেষ করে দিবসের কাজ-কাম।

বাঁশবনে জোনাকির আনাগোনা জানাচ্ছে আভাস এই গোধূলির আগমনের,
হাস্নাহেনার কলি প্রস্তুতি নিচ্ছে নিশিতে সুঘ্রাণ নিয়ে জাগরণের।
ভ্রমরের আনাগোনা নেই তবু কাননে- ফুটেছে বেলী -জুঁই -রজনীগন্ধা,
সৌরভে ভরপুর,সোনালী আভায় ঢাকা-মায়াবী যে এই মধুসন্ধ্যা!

৩ অবসন্ন মানবিক
ফয়জুর রহমান

সামনে এগুতে পারছিনা আর থামতে
হলো মোক্ষম পথ চলায় । 
পরিশ্রান্ত পথিকের ছায়া বনষ্পতির
খোঁজে জনতার আহাজারি দেখছি 
সময়ের পাঠশালায় ।
বহুবর্ণে বহুরূপে জীবন ধারণ ।
প্রতিদিন প্রতিমুহুর্তে আমি শতরূপা, 
কতকাল নিজেকে মানুষ নামে প্রচার
করে করবো চিৎকার চাইবো পরিবর্তন ।

শুনছি আকাশবানী দেখছি বিধান সভা
নিস্ফলা অরণ্য রোদন ।
মাটিতে লাসের বাড়ি চির অমলিন —
আকাশে জীবন রাশি দায়টা যাহারই
হউক হাজারো মরণ।
পৃথিবী কাহার ও নয় আমিত্বে স্বামিত্বে
আধিপত্যে রাখি অধিকার। মরি কিংবা
বাঁচি মাটিতেই যাচি-মাটিতে সৃষ্টি দেহ
মাটিতে আশ্রয় যোগান আহার।
 
অপবিত্র বীর্য থেকে জন্ম আমার ভুলে
যাওয়া অবজ্ঞাতে ধিক ।
আমি স্বর্গ বিতাড়িত শয়তান নই —
পশুকুলে জন্ম হলে তখন আমার
ক্রিয়াকলাপ থাকতো পাশবিক ।
এতটা সময় পার হয়ে আমি অবসন্ন 
মানবিক।জীবন পথে হয়েছি অন্তরিন
যোগাসনে- ভাসান তরী মানস তেপান্তর,
খোঁজি বিধাতা রয়েছি বর্ণ উচ্ছ্বসনে।

৪ শয্যার পাশে ছেলে
মোহাম্মদ আলীম-আল-রাজী 

হাসপাতাল ঘরে নীরব রাত
মায়ের শয্যার পাশে ছেলে
চুপচাপ বসে ভেজা চোখে
ব্যথা গিলে নেয় সে একা

সাদা আলোয় মায়ের মুখ
ধীরে ওঠে নামা শ্বাস
ছেলের বুকে জমে থাকে
অগণিত ভয় আর আশা

মা বলে ধীরে, ভয় নেই
ছেলে বলে, আছি মা
এই দুই কথার মাঝখানে
বেঁচে থাকে জীবনের দিশা

৫ ​তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
​মীর ফয়সাল নোমান
​দীর্ঘ সতেরো বছরের প্রবাস পেরিয়ে,
ফিরছেন তিনি বীরের মতো দেশে।
জনতার ভালোবাসায় মুখরিত আজ;
বাংলার প্রতিটি পথ আর প্রান্তরে।
​আশার আলো জ্বলে উঠেছে মানুষের মনে,
উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে জাতি নতুন করে।
দুর্নীতি-দুঃশাসনের শেকড় উপড়ে ফেলতে,
দৃঢ় হাতে নামবেন সংগ্রামে।
​চাঁদাবাজির অন্ধকারে নামবে না আর রাত,
ন্যায়ের পথে চলবে দেশ নির্ভয়ে।
গরিব-দুঃখীর বন্ধু হয়ে দাঁড়াবেন তিনি,
ভরসার নাম তারেক রহমান।
​জনগণের ঐক্যে গড়ে উঠবে
স্বপ্নের এক নতুন বাংলাদেশ।

৬  রং বদলায়
পঞ্চানন মল্লিক
মানুষের মনে থাকে কত শত ছন্দ,
কভু তার ঝাঁপি খোলা কভু তা বন্ধ।
কখনো দুঃখ আসে সাথে থাকে চাপটা,
কখনো সুখ এসে দেয় ডানা ঝাপটা।
জীবনের সব দিন সমান তো যায় না,
চাইলেই সকলে সব কিছু পায় না।
নতুন সম্পর্ক সদা হয় মধুময় যে,
পুরনো পানসে লাগে বড় ধুধুময় যে।
আজ যে কাছে সে, কাল দুরে যায়রে,
ফিরে আর আসেনা কেবলই হারায়রে।
মানুষের মন বড় আশ্চার্যময় হয়,
ছুটে চলে,ঘোরে ফেরে আর রং বদলায়।

৭ শেষ খেয়ার প্রতীক্ষা

ইরি অতনু​
চঞ্চলা এই জীবনটারে বাসলে ভালো খুব,অশ্রু-নোনা সাগরে ওই দিচ্ছ কেন ডুব?আবেগ মাখা স্বপ্নে বিভোর মাটির দেহ মন,অজ্ঞানতা দিচ্ছে হানা বিফল আয়োজন।​সুখের পিছে ছুটছে মানুষ কাটছে সারা বেলা,বুঝলে না তো নিয়তি ভাই অমোঘ তাহার খেলা।প্রেমের দহন বুকের মাঝে বাড়ছে একা কি,একাকিত্ব সঙ্গী তোমার মায়ার পৃথিবী তে!​দুঃখ তরী বইছে উজান জীবন নদীর বাঁকে,রঙিন নেশা অন্ধ করে আঁকড়ে ধরো কাকে?আঁধার রাতে পথের দিশা হারিয়ে গেছে আজ,পরলে কি ভাই ললাটে সেই চিন্তারেখা ভাঁজ?​আশ্রয় ঐ মৃত্যুপুরী নিরাপদ এক ঘর,সেথায় গেলে আপন হবে অচেনা সব পর।দুখের অতীত হলে তবেই বলবে লোকে সুখি,ফুরাবে সব চাওয়া পাওয়া হাসবে তবে মুখি

৮ ইশতেহার   
মোঃ রহমত আলী

সুরভিত ফুল,
অচিরেই ঝরে,
কলুষিত মূল বহুদিন পরে।

বাসা আছে পড়ে,
পাখি গেছে উড়ে,
স্মৃতি কিছু কিছু হিম্মৎ গড়ে।

দিনে দিনে আবার,
উঠিবে জোয়ার,
ন্যায়ের ঢেউ হবে পর্বত পাহাড়।

যুগে যুগে আসি,
আমি না-হয় তুমি,
যেতে যেতে শেষে ইতিহাস গড়ি

৯ ভাগ্যের কষ্টিপাথর 
আব্দুল কাদের 

অসহায়ত্বের শেকড় ছুঁতে 
মন যে আমার চায়,  
ঘুমের ঘরে শিয়র -তলে  
মরণ -হাওয়া বায়। 
সরল মনে বলছে যারা 
হকের কথা আজ,
শুনছে না কেউ তাদের কথা
নেইকো কারো কাজ। 
কষ্টিপাথর ঘষলে পরে
উঠবে ফুটে শোক, 
অশ্রুজলে ঝাপসা তাদের 
বিদীর্ণ দুই চোখ। 
আটকপালে ভাগ্য যাদের 
বিবেক ভরা মন, 
সততা আর ধর্মে খোঁজে 
শান্তি অনুক্ষণ। 
মিথ্যা মায়ার এই দুনিয়ায় 
দুঃখ সয়ে যায়, 
অন্তরেতে প্রভুর আলো 
তারাই খুঁজে পায়।

১০ হেমন্তের প্রকৃতি 
নার্গিস আক্তার 

হেমন্ত যে এলো দেশে 
নবান্নের গীত গেয়ে 
ঘরে ঘরে পিঠার উৎসব 
পল্লী মায়ের সায়ে। 

ধান কেটে আনলো কৃষক 
কৃষানীর মুখে হাসি 
বারো মাসে তেরো পর্বন 
পল্লী গাঁয়ের মাসি ।

কনকনে শীতে সাইবেরিয়া 
থেকে আসে পাখি 
সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে 
খুলো সবাই আঁখি।

অতিথি পাখি এসে বলে 
শীতে কাঁপছে বুক 
তাই এসেছি পথিক হয়ে 
একটু দাও না সুখ? 

১০ মুহাম্মদ তার নাম
মো. সাব্বির হোসেন টুটুল

মক্কা ঘেঁষে আরব দেশে, আসলেন ভবে মানব বেশে নবী।
খোদার অশেষ কৃপায় যিঁনি, আসলেন রাসুল শ্রেষ্ঠ তিঁনি ছবি।
মাখলুকাত তায় বড্ড খুশে, নবীর প্রেমের সুধা পুষে বুকে,
সবাই বলে খুশি মনে, বিপদের দ্বার যাবে ক্ষণে চুকে।

খোশ মেজাজে পাখিরা সব, মুখে মুখে করছে যে রব্ ধন্য,
মাতোয়ারা সৃষ্টি সকল,গড়বে সত্য ভাঙবে নকল ছন্ন।
আকাশে খুব খুশির রেখা, মেঘেরা সব দিচ্ছে দেখা শত,
মুছে যাবে আঁধার যত, অন্যায় যাহা ভাঙবে তত তত।

মা আমেনা হল ধন্য, আমার নবীর আসার জন্য ঠিক তায়,
আব্দুল্লাহ্ এর কুটির ঘরে, আসলেন নবী প্রভাত ভোরে বাধ নায়।
মা হালিমা ধন্য হলেন, দয়ার নবী দত্তক নিলেন হেসে,
লেংরা ঘোড়া টগবগিয়ে, ছুটল কেমন হনহনিয়ে ঠেসে।

বাবা হারা শিশু নবী, কাঁদে শশী কাঁদে রবি এসে
কিছুদিন পর মাতৃহারা ,আবু তালেব দিলেন সাড়া শেষে।
লালন পালন করতেন যিনি, মারা গেলেন চাচাও তিঁনি ক্ষণে,
মুত্তালিব তাই দায়িত্ব নেন, দয়াল নবীর সুরক্ষা দেন মনে।

একটা সময় দাদাও গেল, দয়াল নবী এতিম হল আহা,
আল্লাহ্ বলেন কুরআন মাঝে, দাওয়াত করো সকাল সাঝে তাহা।
নবী আমার ছিলেন দ্বীনি, আল্লাহ্ তিঁনি বন্ধু যিনি যাহার,
আল-হাবীব তার বিশ্বস্ত নাম, ধন্য হল দুই ধরা ধাম তাঁহার।

১১ ঈসা মসীহ : বিস্ময়ের বার্তা
বদরুল হক 

হে নবী, ঈসা মসীহ! আদমের মতো
সৃজন হল তোমার, দেখেছে মানব
বিস্মিত হয়েছে তারা, পথভ্রষ্ট যতো;
পরাক্রম দেখালেন জাহানের রব।

মাবুদের ‘হয়ে যাও’ আদেশে তোমার
আগমন ধরাধামে পিতৃহীন ভাবে,
মারিয়াম হলেন মা, তুমি পুত্র তাঁর;
ঘোষণা করা হয়েছে পবিত্র কিতাবে।

পাপাচারীরা না চিনে, হয়ে গেল পর;
অপবাদ দিল শুধু, তুমি দিলে তাই-
সবার সম্মুখে স্পষ্ট যথার্থ উত্তর, 
প্রেরিত রাসুল তুমি, পাঠালেন সাঁই।

অবিশ্বাসী তবু মেনে নেয়নি তোমায়,
বিভাজিত হয়ে তারা, দূরে সরে যায়।

১২ কারণ 
ফেরদৌস জামান খোকন 

কারণ ছাড়া অকারণে 
প্রশ্ন করে যারা,
বুঝেও জানি এই সময়ে 
একটু অবুঝ তারা। 
বলছি আমরা বলছে সবাই 
সঠিক পথে আছেন,
তবে কেন কারণ ছাড়া 
এত প্রশ্ন যাচেন?
কারণের সব উত্তর দিতে 
সবার মনটা খোলা, 
উল্টো পাল্টা লিখে যাচ্ছেন 
খাবেন মাছটা মলা। 
কারণের আজ উত্তর খুঁজে 
সবাই দিশেহারা,
হাসছি আমি  হাসছে সবাই 
কারণ জানি ছাড়া।
কারণ ভুলে অকারণের 
পথের পথিক হয়ে, 
বিনা দোষে দুষ্ট আমি 
গেলাম আজই ক্ষয়ে।

১৩ আর কত হত্যা
নাজীর হুসাইন খান

আহা কিযে যন্ত্রনা
ভিতরে এই বুকটার
অপরাধ ছিলো কিনা
জানিনা এই লোকটার।

কি কারনে কেড়ে নিলো
তার তাজা প্রাণটা
বাতাসেও মিশে গেলো
রক্তের ঘ্রাণটা।

শোকাহত হলো তার
আত্মীয় স্বজনে
দেখে গেলো কেঁদে গেলো
আরো কত ক’জনে।

আর কত এভাবে
হবে গুম হত্যা
হারিয়েছে বুঝি আজ
বিবেক ও সত্বা।

১৪ কেটে গেল বছর
ওমর ফারুক 
নতুন বছর নতুন খুশি,আসেনা তো মনে,একটি বছর কেটে গেল,আমাদের হায়াত থেকে মাইনাছে।নতুন বছরের আগমনে,মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করি, আলহামদুলিল্লাহ বলি,যেই বছরটা কেটে গেছে,সেই বছরে হিসাব একটু যে করি?সুন্দর লগনে বছর মানে,সুখে আর বিয়োজনে তো হয়,একটি বছরে মাইনাস হলো তাইতো বলি,সুন্দর বদনে যে রই



ফেসবুক কর্নার