April 24, 2026, 7:24 am
শিরোনাম :
সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: একটি যুগান্তকারী রক্ষাকবচ সালিস বৈঠকে স্কুলের দেয়াল ধসে সাবেক কাউন্সিলরসহ আহত ৩ প্রবাসী নবী হোসেনের সংসার ভাঙনের অভিযোগ, ন্যায়বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ জবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সুবিধা চালু ভুল প্রশ্নপত্র ইস্যুতে ১৭৭ শিক্ষার্থী নিয়ে শঙ্কা নেই: জেলা প্রশাসক গোবিন্দগঞ্জে বৈশাখী মেলার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড: প্রশাসনের অভিযানে আসর ভেঙে দেওয়া শিবপুরে প্রাইভেট পড়াতে অস্বীকৃতি: শিক্ষকের ওপর হামলা, আটক ২ দোয়ারাবাজারে মাদকসহ আটক মামুন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড ধামইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৬৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ও ধ্বংস কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত

তালায় শিক্ষক মফিদুল ইসলামের অশালীন ভিডিও নিয়ে বিতর্ক ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি, বিভ্রান্তিকর দাবিতে জনমনে প্রশ্ন

অভয়নগর প্রতিবেদক

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ঘোনা পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় বিষয়ক শিক্ষক মফিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অশালীন ভিডিও ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দেওয়া ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে দাবি উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মফিদুল ইসলাম দাবি করেছেন— ভিডিওটি তিনি নাকি সিমেন অ্যানালাইসিস পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ধারণ করেছিলেন এবং অসাবধানতাবশত তা তার মোবাইল ফোন থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সচেতন মহল ও অভিযোগকারীদের মতে, এই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রথমত, মফিদুল ইসলামের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী তার একটি সন্তান রয়েছে, যার বয়স তিন বছরের বেশি। সন্তান থাকা সত্ত্বেও সিমেন অ্যানালাইসিস পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার দাবি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ ও অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয়ত, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এটি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওতে দৃশ্যমান পরিবেশ, সিলিং ও দোকানের কাঠামো দেখে এটি নোয়াপাড়া বাজারে অবস্থিত অভিযুক্তের নিজস্ব ঔষধ ফার্মেসি বলেই প্রতীয়মান হয়। কোনোভাবেই এটিকে হাসপাতাল বা অনুমোদিত পরীক্ষাগার হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

তৃতীয়ত, চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী সিমেন অ্যানালাইসিস পরীক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বীর্য সংগ্রহ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আলোচ্য ভিডিও ও সময় বিবেচনায় অভিযুক্তের কার্যকলাপের সঙ্গে এই চিকিৎসাগত প্রক্রিয়ার কোনো মিল পাওয়া যায় না।

অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক তার অনৈতিক ও অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যা শিক্ষকতা পেশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের জন্য চরমভাবে লজ্জাজনক।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন ধর্মীয় বিষয়ক শিক্ষক হিসেবে এমন ঘটনায় জড়িত থাকা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং শিক্ষাঙ্গন ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এ প্রসঙ্গে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগকারী যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার