মাগুরার শালিখা উপজেলার চিত্রা নদীর তলদেশ থেকে কয়েকশো বছরের পুরোনো একটি তরবারি উদ্ধার হয়েছে। আজ রোববার বিকাল ৫ টায় বিশ্ব ব্যংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে এক্সাবেটরের মাধ্যমে চিত্রা নদীর মাটি খননকালে এই তরবারিটি পাওয়া যায়। তরবারিটি বর্তমানে নদী খনন কাজের সাব ঠিকাদার ও মাগুরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল সরদারের নিকট সংরক্ষিত। স্থানীয়দের ধারণা ঐতিহাসিক এই অস্ত্রটি মধ্যযুগীয় বা সুলতানী আমলের কোনো সময়ের হতে পারে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তরবারিটি এক পলক দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় কৌতূহলী ও উৎসুক জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকালে শালিখা উপজেলার চিত্রা নদীর কাদিরপাড়ার শ্মশান ঘাটের অংশে এক্সাবেটর দিয়ে খননের সময় একটি ভারী বস্তু আটকে যেতে দেখেন। পরে সেটি তোলার পর দেখা যায়, সেটি একটি পুরোনো তরবারি। তরবারিটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক চার ফুটের কাছাকাছি এবং এর হাতলের বাকানো অংশে ক্ষয় ও মরিচা ধরলেও মূল আকৃতি বেশ স্পষ্ট রয়েছে।
খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ নদীর পাড়ে ভিড় করেন। অনেকে আরো অনেক কিছু উঠতে পারে এই আশায় দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন নদী পাড়ে। অনেকেই ধারণা করছেন, তরবারিটি কোনো প্রাচীন যুদ্ধ বা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হতে পারে।
শতখালী ইউনিয়নের কাদিরপাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আতিম মোল্যা বলেন, চিত্রা নদী ও এর আশপাশের অঞ্চল একসময় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও জনবসতি ছিল। সে কারণে এখানে ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
অপর একজন প্রবীণ ব্যক্তি মোহরমোল্যা বলেন, আমাদের এই অঞ্চলটি জমিদার অধ্যুষিত এলাকা। আমাদের পাশ্ববর্তী গ্রাম ছান্দড়ায় একসময় জমিদাররা বসবাস করতেন। তাই আমাদের শুধু চিত্রা নদীই নয়, শালিখা উপজেলার অন্যান্য নদী খনন করলেও ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মৃতি বহনকারী আরো অনেক জিনিসই পাওয়া যাবে
যেহেতু ধারণা করা হচ্ছে তরবারিটি কয়েকশো বছরের পুরোনো। তাই এটি শালিখা অঞ্চলের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হবে। তদন্ত ও গবেষণা শেষে তরবারিটি জাদুঘরে সংরক্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাই এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে তরবারিটি সংরক্ষণ এবং তৎপরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।