April 24, 2026, 7:21 am
শিরোনাম :
সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: একটি যুগান্তকারী রক্ষাকবচ সালিস বৈঠকে স্কুলের দেয়াল ধসে সাবেক কাউন্সিলরসহ আহত ৩ প্রবাসী নবী হোসেনের সংসার ভাঙনের অভিযোগ, ন্যায়বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ জবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সুবিধা চালু ভুল প্রশ্নপত্র ইস্যুতে ১৭৭ শিক্ষার্থী নিয়ে শঙ্কা নেই: জেলা প্রশাসক গোবিন্দগঞ্জে বৈশাখী মেলার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড: প্রশাসনের অভিযানে আসর ভেঙে দেওয়া শিবপুরে প্রাইভেট পড়াতে অস্বীকৃতি: শিক্ষকের ওপর হামলা, আটক ২ দোয়ারাবাজারে মাদকসহ আটক মামুন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড ধামইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৬৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ও ধ্বংস কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত

নদী ও ধরিত্রী রক্ষায় এক নিঃসঙ্গ অভিযাত্রীর পদযাত্রা

কে এম জাকির

 

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আর নদ-নদীর বিপন্ন দশা নিজ চোখে দেখতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে এক ব্যতিক্রমী পদযাত্রা শুরু করেছেন পরিবেশকর্মী মাসফিকুল হাসান টনি। গতকাল, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, রৌমারীর দুর্গম চর ইটালুকান্দা থেকে তিনি তার এই দীর্ঘ যাত্রার সূচনা করেন। আজ ২৫ জানুয়ারি সকালে তিনি কুড়িগ্রামের ফলুয়ার চর ঘাট এলাকা থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ধরে পুনরায় তার পদযাত্রা শুরু করেছেন।
তার এই অভিযানের মূল লক্ষ্য উত্তরের রৌমারী থেকে দক্ষিণের ভোলার চর কুকরিমুকরি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার তীর ঘেঁষে কয়েকশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া। মাসফিকুল হাসানের এই যাত্রার মূল স্লোগান— “নদীতে প্রাণের কান্না, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াও”।
আজ সকালে ফলুয়ার চর ঘাটে যাত্রার প্রাক্কালে তিনি জানান, আমাদের নদ-নদীগুলো আজ কেবল অস্তিত্ব সংকটে নেই, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীপাড়ের মানুষের জীবনও বিপন্ন। ব্রহ্মপুত্রের বুক চিরে জেগে ওঠা চর আর ভাঙনের দৃশ্যই বলে দেয় প্রকৃতির ওপর আমরা কতটা অবিচার করছি। তিনি মনে করেন, কেবল কাগজে-কলমে নয়, নদীর এই ‘কান্না’ অনুভব করতে হলে নদীর পাড় ধরে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই।
এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে নদীর গতিপথের রূপান্তর পর্যবেক্ষণ করবেন। পথে পথে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করছেন এবং পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
রৌমারী থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রাটি যখন ভোলার চর কুকরিমুকরিতে শেষ হবে, তখন এটি বাংলাদেশের নদ-নদী ও জলবায়ু বিষয়ক সচেতনতায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে বলে পরিবেশবাদীরা আশা করছেন। মাসফিকুল হাসান টনির এই অদম্য সাহসী পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়— প্রকৃতিকে বাঁচাতে হলে এখনই রুখে দাঁড়ানোর সময়।



ফেসবুক কর্নার