
আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের হাতে পাচার হওয়া জুয়েল নামের এক যুবককে ইন্টারপোলের সহায়তায় উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। থাইল্যান্ডে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কম্বোডিয়ায় পাচার করা হয় এবং সেখানে দীর্ঘ ৯ মাস জিম্মি করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। রাজি না হলে চালানো হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অবশেষে বোনের উদ্যোগ ও পুলিশের সহযোগিতায় সেই মৃত্যুকূপ থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন জুয়েল।
জুয়েল মিয়া ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাকে থাইল্যান্ডে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেওয়া হয়। ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে গত বছরের ৯ এপ্রিল তাকে কম্বোডিয়ায় পাচার করা হয় এবং সীমান্তবর্তী ওসমাস এলাকায় আটকে রাখা হয়। সেখানে স্ক্যামসহ নানা অনৈতিক কাজে তাকে বাধ্য করা হতো। রাজি না হলে মারধর, কারেন্ট শকসহ নানা নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জুয়েল জানান, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাসে একবার কথা বলার সুযোগ পেলেও নিজের দুর্দশার কথা প্রকাশ করতে পারতেন না। সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বন্দিশালা থেকে পালানোর সুযোগ পান তিনি। এরপর তার বোন রুমা খাতুন বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে ঝিনাইদহ আদালতে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোল ও কম্বোডিয়া পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার জুয়েলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জুয়েলের বোন রুমা খাতুন বলেন, “আমার ভাই জীবিত ফিরে আসবে, সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। পুলিশের সহযোগিতায় সে ফিরে এসেছে—এ জন্য আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাই।”
ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর গোলাম মোর্শেদ জানান, ইন্টারপোলের সহায়তায় জুয়েলকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সে নিরাপদে পরিবারের কাছে রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, মানবপাচার চক্রের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, মামলায় ছয় মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্য ফয়সাল ও তার পরিবার গা ঢাকা দিয়েছে। মানবপাচারকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জুয়েলের পরিবার ও স্বজনরা।