
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার লাঠিয়ালডাঙ্গা ও বালিয়ারী গ্রাম—এই দুই গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে জিনজিরাম নদী। একসময় যে নদী ছিল জীবিকা ও যোগাযোগের সহজ মাধ্যম, সেই নদীই এখন হয়ে উঠেছে প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগের কারণ। নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় এলাকাবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই অমানবিক পরিস্থিতি চললেও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
লাঠিয়ালডাঙ্গা থেকে বালিয়ারী গ্রামে যাতায়াতের পথে নেই পাকা রাস্তা কিংবা যানবাহন চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা। ফলে হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা হাসপাতালে যেতে হলে মানুষকে পায়ে হেঁটেই এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে হয়। সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েন গর্ভবতী নারী ও গুরুতর রোগীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় অতীতে একাধিক প্রসূতি মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই প্রাণ হারাতে হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশের ন্যূনতম সুযোগও নেই এই এলাকায়।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয় শিশু-কিশোরদের। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে সাঁকো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তখন অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, যা তাদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে। একইভাবে কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন। অতিরিক্ত পরিবহন খরচ ও সময়ক্ষেপণের কারণে অনেক সময় ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হতে হয় তাদের।
এলাকাবাসীর দাবি খুবই সহজ ও স্পষ্ট—জিনজিরাম নদীর ওপর একটি স্থায়ী কংক্রিট সেতু নির্মাণ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তারা বড় কোনো উন্নয়ন চান না, শুধু নিরাপদে চলাচলের জন্য একটি সেতু চান। সন্তানদের ঝুঁকিমুক্তভাবে স্কুলে পাঠানো, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান আকাঙ্ক্ষা।
এ অবস্থায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি এলাকাবাসীর আকুল আবেদন—আর কত প্রাণ গেলে এখানে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে? তারা চান, আগামী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লাঠিয়ালডাঙ্গা-বালিয়ারী সংযোগকারী সেতুটি অন্তর্ভুক্ত করা হোক। জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এই অবহেলিত জনপদের মানুষ এখন শুধু একটি স্থায়ী সেতুর আশ্বাসে দিন গুনছে।