
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর একাধিক কর্মী-সমর্থককে মারধর ও নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার কর্মী-সমর্থকরা আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসব ঘটনায় আত্রাই ও রাণীনগর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক চারদলীয় জোটের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরের রাণীনগর উপজেলা নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় রাণীনগর উপজেলার পাকুড়িয়া খেলার মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মোটরসাইকেল প্রতীকের কর্মী তানসিন আলী লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেনের ভাগ্নে লিটন হোসেনসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে। এতে তানসিন আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। আহত তানসিন পাকুড়িয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় রাণীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তবে লিটন হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে নয়, ফুটবল খেলার মাঠে মাইকে কথা বলার সময় তানসিন এসে মাইকের তার খুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ফেরার পথে পথরোধ করে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করতে গেলে আত্মরক্ষার্থে তাকে দু-একটি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বলেন, মারধরের ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবীরের নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা ইয়াকুব আলী মজনু জানান, সোমবার দিনভর প্রচারণা শেষে রাতে সবাই বাড়ি চলে যান। ফজরের নামাজের পর এসে তিনি দেখতে পান ক্যাম্পের দুটি টেবিলসহ কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, প্রতিপক্ষ ধানের শীষের প্রার্থীর নেতা-কর্মীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ ছাড়া একই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের কাঠালতলি গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী আব্দুল জলিল, তার স্ত্রী হালিমা বেগম ও মেয়ে জলি আক্তার জুথীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন সমন্বয়ক আব্দুল হাকিম জানান, রোববার রাতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসব অভিযোগকে সাজানো নাটক দাবি করে রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন বলেন, আমাদের কোনো নেতা-কর্মী মারধর বা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নয়। তারা নিজেরাই এসব করে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তারা আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, হাটকালুপাড়ায় মারধরের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। বান্দাইখাড়া বাজারে নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।