March 6, 2026, 8:04 pm
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বিজয়নগরে গরু-মহিষ চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় খামারিরা আতঙ্কিত কাজিপুরে ভুট্টাক্ষেতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ইবি শিক্ষিকা হত্যা: প্রধান আসামি ফজলুর রহমান গ্রেফতার, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নীলফামারীতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে তরুণদের ব্যাপক সাড়া শ্রীমঙ্গল পুলিশের অভিযানে পানি পাম্প ও চোরাই রাবারসহ ৬ জন আটক কুষ্টিয়ায় সরকারি খাস পুকুর থেকে মাটি অবৈধ কেটে বিক্রির ঘটনায় অভিযান ও কারাদণ্ড ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উত্তেজনা: মজনু রহমান ননীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ শেরপুরে তিন তেলের পাম্পে মোবাইল কোর্ট অভিযান, মহাস্থানে আবাসিক বোর্ডিংয়ে পুলিশের অভিযান: নারী ও খদ্দেরসহ আটক ৩

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ১৮ বছরেও চালু হয়নি গভীর নলকূপ সরকারি ৩৯ লাখ টাকার প্রকল্প অচল, সেচ সংকটে শতবিঘা জমি

অভয়নগর প্রতিবেদক

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় স্থাপিত একটি গভীর নলকূপ দীর্ঘ ১৮ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকার প্রায় শতবিঘা জমির কৃষকেরা মারাত্মক সেচ সংকটে ভুগছেন।

উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ফোপড়া সুজাপুর মৌজায় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) তত্ত্বাবধানে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। নলকূপটি মোশারফ হোসেনের জমিতে একটি কৃষক কমিটির মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়।
বিএমডিএ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন স্থাপন, ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাইপসহ প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে পার্শ্ববর্তী আরেকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন গভীর নলকূপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতার কারণে আজও পানি উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পাশের একটি গভীর নলকূপের মালিক শফির উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নলকূপটি চালু হতে দিচ্ছেন। ফোপড়া গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, “খরা মৌসুম এলেই আমরা পানির অভাবে পড়ে যাই। নলকূপটি চালু না থাকায় ফসল ফলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বর্গাচাষি সিরাজুল ইসলাম জানান, একটি বিঘা জমিতে সেচ দিতে বর্তমানে তাদের ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। অথচ সরকারি নলকূপটি চালু হলে একই জমিতে সেচ খরচ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত।

এ বিষয়ে বর্তমান চালু থাকা গভীর নলকূপের মালিক শফির উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো প্রভাবশালী নই। আমাদের স্কিম এলাকার ভেতরেই ওই নলকূপ বসানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মারামারি হয়েছিল এবং মামলায় তারা পরাজিত হয়েছে।”

অপরদিকে উপজেলা বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাক আহম্মদ বলেন, “কৃষকদের লিখিত আবেদন পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক দফা বৈঠকও হয়েছে। এখানে সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে আগ্রহ দেখান, তাহলে নলকূপটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। অন্যথায় সরকারি সম্পদ রক্ষায় যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিএমডিএ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা এই গভীর নলকূপ দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ অপচয় হবে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।



ফেসবুক কর্নার