
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন, টপ সয়েল কর্তন ও অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত এক মাসে ১১টি অভিযানে একাধিক এস্কেভেটর (ভেকু) নিষ্ক্রিয়, ব্যাটারি জব্দ, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় পুকুর খননকারী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
ভূমি রক্ষায় সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আলোচনায় উঠে এসেছেন দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে আসছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দুই মাসে মোট ১৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিযানের মধ্যে রয়েছে—২৫ নভেম্বর কিসমত তেকাটিয়ায় ভেকু নিষ্ক্রিয়, ১৫ ডিসেম্বর উজানখলসীতে ভেকু নিষ্ক্রিয়, ১৬ ডিসেম্বর কয়ামাজমপুরে ভেকু নিষ্ক্রিয় এবং ১৭ ডিসেম্বর সুখানদিঘীতে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান।
৩০ ডিসেম্বর একই এলাকার পৃথক দুটি অভিযানে এক মাস ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২ জানুয়ারি বড়ইলে ভেকু নিষ্ক্রিয়, ৬ জানুয়ারি গৌরিহারে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ৮ জানুয়ারি উজানখলসীতে ভেকু নিষ্ক্রিয়, ৯ জানুয়ারি গগনবাড়িয়ায় দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং ১০ জানুয়ারি সুখানদিঘীতে আবারও ভেকু নিষ্ক্রিয় করা হয়।
পরবর্তীতে ১১ জানুয়ারি উজানখলসীতে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলপুরে, ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি আনুলিয়ায় পৃথক দুটি স্থানে, ১৯ জানুয়ারি বড়ইলে ভেকু নিষ্ক্রিয় করা হয়। সর্বশেষ ২৫ জানুয়ারি আলীয়াবাদ এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসনের টানা অভিযানের ফলে প্রকাশ্যে অবৈধ পুকুর খনন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ গোপনে খনন চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হচ্ছে। ফলে সিন্ডিকেট কোনোভাবেই সুবিধা করতে পারছে না।”
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন, “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর বিভিন্ন ধারায় টপ সয়েল কর্তন ও অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষিজমি সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনস্বার্থে এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”