
বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৯১ ভোট। এছাড়া হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা ইদ্রিস আলী পান ১ হাজার ৬১৮ ভোট এবং লাঙ্গল প্রতীকে শাহীন মোস্তাফা কামাল ফারুক পান ৫২৮ ভোট।
নন্দীগ্রাম উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার ৪৯টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মোট ব্যালটভুক্ত ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯১টি, যা শতকরা ৭৩.৮৩ শতাংশ। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫ এবং বাতিল ভোট ১ হাজার ৭৯৬টি।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম উপজেলায় অনুষ্ঠিত গণভোট-২০২৬–এর ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭৫ হাজার ২৫৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২৮ হাজার ৩৮২টি।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়। কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা শুক্রবার সকাল থেকেই তাঁর গ্রামের বাড়িতে জড়ো হন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোশারফ হোসেন। তখন তিনি ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন (নৌকা প্রতীক) পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার ৪৮ ভোট।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১৩ সালে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন মোশারফ হোসেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়ে তিনি এলাকায় নিজের অবস্থান শক্ত করেন। নেতাকর্মীদের দাবি, তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেছেন।
বিজয়ের পর মোশারফ হোসেন বলেন, “বগুড়া-৪ আসনের জনগণের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থাই আমার শক্তি। এখন আমার লক্ষ্য পিছিয়ে থাকা উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নেওয়া। আমরা সবাই মিলে উন্নয়ন, শান্তি ও ঐক্যের পথে এগিয়ে যাব—এটাই আমার অঙ্গীকা