
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা এক নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের অনুরোধের পর তিন সদস্যের এ বোর্ড গঠন করা হয়। এর আগে অভিযোগের বিষয়ে হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুলিশের চাহিদাপত্র ছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায় না। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে রিকুইজিশন পাওয়ার পর তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে রয়েছেন প্রসূতিবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শিরিন সুলতানা, চিকিৎসক ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও চিকিৎসক তাহমিনা আক্তার। তারা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। সংগৃহীত আলামত মেডিক্যাল কলেজের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে এবং ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
অভিযোগকারী নারী দাবি করেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাঁর স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করেন। তবে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি তা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ওই রাতে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি নিজেই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জেলা শাখা এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে দাবি করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।
ঘটনার তদন্ত ও মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।