May 14, 2026, 4:08 pm
শিরোনাম :
ইবিতে গ্রীন ভয়েসের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ জাককানইবির নতুন উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান মুকসুদপুরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পরিচালক খয়ের উদ্দিন মোল্লা উপবন এক্সপ্রেসের টয়লেট থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা

‘কার্ড সাংবাদিক’ এর ছড়াছড়ি: ক্ষুণ্ন হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদা

অভয়নগর প্রতিবেদক

রাজশাহী জেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে কথিত ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর সংখ্যা। জেলার আনাচে-কানাচে এখন সাংবাদিক পরিচয়পত্র ধারীর অভাব নেই। তবে এদের বড় একটি অংশ প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও পেশাদার সাংবাদিকরা।
জানা গেছে, জেলায় তথ্য অধিদপ্তর (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হলেও এর বাইরে আরও বহু অনিবন্ধিত পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সরকারি নিবন্ধন বা অনুমোদন না থাকলেও তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে পরিচয়পত্র (কার্ড) বিতরণ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দূর্গাপুর উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা । মোট ওয়ার্ড ৭২ টি, গ্রাম ১২৩ টি। মোট জনসংখ্যা ১,৯৭,৬৯৩ জন (২০২২ সালের জনশুমারী ও গৃহগণনা অনুযায়ী) । বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োগকৃত সাংবাদিক আছেন ৮০+ । যা স্থানীয় ভাবে হাস্যকর।
অভিযোগ রয়েছে, অল্প টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ—ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, বাইক মেকানিক, ডিম বিক্রেতা, ইজিবাইক চালক, ভূমি অফিসের দালাল, দিনমজুরসহ নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এদের নেই কোন শিক্ষা সনদ,পোশাকে রুচিশীলতা,শারীরিক গঠন,বাঁচান ভঙ্গী । পরে এসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি শুধু একটি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার একজন লেখক-সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিছু পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি এবং অল্প টাকার লোভ থেকেই মূলত এই কার্ড বাণিজ্য চলছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ না হলে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের সম্মান আরও কমে যাবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো, নিবন্ধনবিহীন সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, প্রকৃত সাংবাদিকতা হলো দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ পেশা। তাই সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গেলে সাংবাদিকতার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। ‌



ফেসবুক কর্নার