
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় গত এক বছরে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালে উপজেলায় মোট ৮,০২৬টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে। একই সময়ে বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে ৩,৯৮৪টি।
এই হিসাবে বছরে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০–১১টি বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। বিয়ের তুলনায় বিচ্ছেদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নারীদের পক্ষ থেকে বেশি আবেদন
উপজেলা সূত্র বলছে, বিচ্ছেদের অধিকাংশ আবেদনই নারীদের পক্ষ থেকে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর পেছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ থাকতে পারে। নারীর শিক্ষার হার ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে অনেকে অসন্তোষজনক বা নির্যাতনমূলক সম্পর্কে আর থাকতে আগ্রহী নন।
সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা
স্থানীয় সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক কলহ, যৌতুক-সংক্রান্ত বিরোধ, মাদকাসক্তি, পরকীয়া, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে। পাশাপাশি দ্রুত বিয়ে ও পর্যাপ্ত পারিবারিক পরামর্শের অভাবও একটি কারণ হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিসংখ্যানের পেছনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। শুধুমাত্র সংখ্যার ভিত্তিতে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় বলে মন্তব্য করা যথার্থ নয়।
প্রয়োজন সচেতনতা ও কাউন্সেলিং
সংশ্লিষ্টদের মতে, পারিবারিক কাউন্সেলিং, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে বিচ্ছেদের হার কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা ও বৈষম্য রোধেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।