
ভালোবাসা দিবস হিসেবে পরিচিত ১৪ ফেব্রুয়ারি উপকূলীয় অঞ্চলে পালিত হয় ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে দিনটিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে আসছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবসটি উপলক্ষে খুলনার কয়রা উপজেলার কাটকাটা এলাকায় ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবনের উদ্যোগে এবং রূপান্তরের সহযোগিতায় আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা সুন্দরবনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত দিবস ঘোষণার দাবি জানান। তারা বলেন, সুন্দরবন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষা করতে এই বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ১৯৯২ সালে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকো একে প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের প্রায় ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ জলাভূমি। এখানে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এবং বিপুল মৎস্যসম্পদ রয়েছে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অবৈধ শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা এবং প্লাস্টিক দূষণসহ নানা কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবন কয়রার সভাপতি নিরপদ মুন্ডা বলেন, “সুন্দরবন আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বন টিকে থাকার ওপর উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। সুন্দরবন রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ.ব.ম. আব্দুল মালেক বলেন, “সুন্দরবন শুধু জাতীয় সম্পদ নয়, বৈশ্বিক পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস্টিক দূষণ, বনভূমি ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
এবারের সুন্দরবন দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘সুন্দরবনকে ভালোবাসুন, জীববৈচিত্র্যকে ভালোবাসুন; বাঁচাই সুন্দরবন, বন্ধ করি প্লাস্টিক ও বিষ দূষণ।’