
রমজান এলে ঘরে ঘরে ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হয়। ছোলা, পিয়াজু, বেগুনি, হালিম, জিলাপি কিংবা শরবতের তালিকা আগেভাগেই ঠিক করা হয়। কিন্তু একই সময়ে আমাদের চারপাশেই হয়তো কোনো পথশিশু একবেলা খাবারের অভাবে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এই বৈপরীত্য সমাজের বিবেককে নাড়া দেয় এবং আমাদের মানবিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
পবিত্র মাহে রমজান আত্মসংযমের পাশাপাশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। সচেতন মহল মনে করছেন, ইফতারের আয়োজনের সময় অন্তত একদিনের জন্য হলেও ছিন্নমূল শিশুদের কথা ভাবা উচিত। পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সামান্য একটি অংশ পথশিশুদের জন্য রাখলে তা বড় মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
সমাজকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা বলছেন, অল্প সদিচ্ছা ও সমন্বিত উদ্যোগেই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। মহল্লাভিত্তিক উদ্যোগ, সামাজিক সংগঠন কিংবা তরুণদের অংশগ্রহণে ইফতার সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণের মাধ্যমে পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটানো যায়। একটি খেজুর, এক গ্লাস শরবত বা এক প্যাকেট খাবার—যা আমাদের কাছে সামান্য, তাদের কাছে তা অমূল্য প্রাপ্তি। রমজানের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়নে তাই ইফতারের তালিকায় মানবিকতার নাম যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।