একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে যুবসমাজই মূল কারিগর। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাল্যবিবাহ ও মাদকের ভয়াবহ থাবা সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়তে এবং একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কুটিরচর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ‘অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন’। ফ্রেন্ডশিপ এনজিওর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রৌমারী উপজেলার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় সচেতন মহল একাত্মতা ঘোষণা করেন।
প্রশাসনের কঠোর বার্তা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আলাউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “বাল্যবিবাহ কেবল একটি মেয়ের স্বপ্নই নষ্ট করে না, বরং একটি সাজানো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। একইভাবে মাদক যুবসমাজকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হলে পরিবার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন।
সম্মিলিত কণ্ঠে প্রতিরোধের ডাক
ক্যাম্পেইনে বিশেষ অতিথিবৃন্দও তাদের বক্তব্যে এই দুই সামাজিক ব্যাধির কুফল তুলে ধরেন।
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), রৌমারী: মাদকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের ওপর জোর দেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা: বাল্যবিবাহের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং নারীর ক্ষমতায়নে এর অন্তরায়ের কথা তুলে ধরেন।
শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ: শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানান।
ফ্রেন্ডশিপ এনজিওর ভূমিকা
চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় কাজ করা এনজিও ‘ফ্রেন্ডশিপ’ তাদের এই আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তারা মনে করেন, সঠিক তথ্য ও সচেতনতাই পারে কুটিরচরের মতো এলাকাগুলোকে একটি আদর্শ জনপদে পরিণত করতে।
উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি
কুটিরচর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে সমবেত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। সচেতনতামূলক এই প্রচারণার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা সম্মিলিতভাবে শপথ নেন যে—রৌমারীর মাটি থেকে বাল্যবিবাহ উচ্ছেদ করা হবে এবং যুবসমাজকে মাদকের মরণছোবল থেকে রক্ষা করা হবে। বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী এই অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন কেবল একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর নিয়মিত চর্চা জরুরি। রৌমারীর প্রতিটি ঘরে যদি এই সচেতনতার মশাল জ্বলে ওঠে, তবেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও সম্ভাবনাময় দেশ উপহার পাবে।