April 28, 2026, 3:55 pm
শিরোনাম :
কালবৈশাখী ঝড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ভেঙে পড়ল টাওয়ার লক্ষ্মীপুরে রামগতিতে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু, আগস্টে গ্রিডে বিদ্যুৎ মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙে প্লাবন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও লামায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত, র‍্যালি ও আলোচনা সভা নাটোরে নলডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহ ডায়াবেটিক সমিতির ৩২তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে পুকুর খননে মিলল প্রাচীন নিদর্শন, এলাকায় চাঞ্চল্য হজ পালনে গিয়ে সৌদি আরবে জামালপুরের শিক্ষকের মৃত্যু জান্নাতুল বাকিতে দাফন সম্পন্ন  ধামরাইয়ে বেইলি ব্রিজের বেহাল দশা: দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধা, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

তাড়াশ পৌরসভায় ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

অভয়নগর প্রতিবেদক

তাড়াশ পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়া ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার অধিকাংশ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পৌর প্রকৌশলী মো. মুকুল হোসেন ও স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এস এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী সোহাগ রানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নথিতে একাধিক রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব নেই।
ভুক্তভোগী পৌরবাসীর দাবি, কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে উন্নয়নের দৃশ্যমান কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। পৌরসভার অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ‘আমরাও আছি পাশে’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন জনমত জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপেও পৌরসভার অনিয়ম ও নাগরিক সেবায় ঘাটতির সুস্পষ্ট তথ্য উঠে এসেছে বলে সংগঠনটির দাবি। বিশেষ করে ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রাস্তা সংস্কারে চরম অবহেলার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।
দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন: জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকারের প্রজ্ঞাপনের পর পৌর মেয়রের পদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সময় পৌর প্রকৌশলী মো. মুকুল হোসেন স্বল্প পরিচিত একটি পত্রিকায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গোপনে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৌশলী সব প্যাকেজের কাজ এস এস এন্টারপ্রাইজ-কে পাইয়ে দেন। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলা নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
নাগরিক সেবায় চরম দুর্ভোগ: পৌর শহরের বাজারের মুদি দোকানদাররা জানান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রায় ৯ বছরেও কার্যকর ড্রেন নির্মাণ হয়নি। বৃষ্টি হলে পানি জমে রাস্তা তলিয়ে যায় এবং দোকানে পানি ঢুকে ক্ষতি হয়। পাশাপাশি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় বাজারে ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়, ফলে দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকৌশলীর বক্তব্য ও প্রশাসনের আশ্বাস: বরাদ্দের প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পর্কে স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি পৌর প্রকৌশলী মো. মুকুল হোসেন। তবে তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনে দরপত্র আহ্বান ও কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নুসরাত জাহান বলেন, “৫টি প্যাকেজে কতটুকু রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পৌরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় নিশ্চিত করা হবে।



ফেসবুক কর্নার