
লাভজনক হওয়ায় নাটোরের হালতি বিল এলাকার কৃষকরা পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয়ভাবে ‘কালো সোনা’ নামে পরিচিত এ বীজ চাষে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের সম্ভাবনা থাকে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বড় একটি অংশ নলডাংগা উপজেলা-র হালতি বিল এলাকায়। উৎপাদিত বীজের প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয়, আর বাকিটা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
চাষিরা জানান, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেশি। পাশাপাশি মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন না হওয়ায় হাতে পরাগায়ন করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমনির্ভর। এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ৭০-৮০ কেজি বীজ পাওয়া যায়।
গত বছর প্রতি কেজি বীজ ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও আগের বছর তা ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছিল। চাষিরা আশা করছেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে এবং তারা লাভবান হবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বীজ উৎপাদন বাড়লে পেঁয়াজ চাষও বাড়বে। গত বছর জেলায় ৫,০৩৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল, যা চলতি বছরে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
কৃষকদের মতে, অধিক পরিশ্রম ও ব্যয়ের পরও লাভজনক হওয়ায় পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।