May 14, 2026, 5:39 pm
শিরোনাম :
ইবিতে গ্রীন ভয়েসের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ জাককানইবির নতুন উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান মুকসুদপুরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পরিচালক খয়ের উদ্দিন মোল্লা উপবন এক্সপ্রেসের টয়লেট থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা

বিদায়, বেইলি রোড! অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিবের আবেগঘন স্ট্যাটাস

অভয়নগর প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালনের সুবাদে বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ বসবাসের স্মৃতি রোমন্থন করে ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এর স্মৃতি রোমান্থন করে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, বিদায়, বেইলি রোড। তুমি আমার জীবনের এক রোমাঞ্চকর যাত্রার সাক্ষী হয়ে আছো। বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’ ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতাম আমি। যদিও তখন সেখানে কোনো মন্ত্রীরা থাকতেন না। ওই ভবনে থাকতেন কেবল বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনাররা। চারপাশটা খুবই শান্ত ও স্থির মনে হতো। সেখানে সকালটা শুরু হতো পাখিদের কিচিরমিচিরে। আমার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ‘যমুনা’, যেখানে ঘটেছে অসংখ্য নাটকীয় ঘটনা।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর শাহীনবাগের নিজ বাসা ছেড়ে বেইলি রোডে ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ বসবাসের মূল কারণ ছিল যমুনা’র কাছে থাকা। কারণ, যমুনা’য় অবস্থান করতেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের অধিকাংশ সময় তিনি সেখান থেকেই দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেছেন। বহুবার এমন হয়েছে- আমাকে রাতের খাবার ফেলে রেখে যমুনায় ছুটে যেতে হয়েছে- সংকট ব্যবস্থাপনা কাছ থেকে দেখার জন্য এবং সেই প্রচেষ্টার কথা মানুষকে জানানোর জন্য।’

স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব লিখেন, ‘আমার বেইলি রোডের ফ্ল্যাট থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল ফরেন সার্ভিস একাডেমি। সেখানে আমি প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিয়েছি। এই জায়গার শান্ত পরিবেশ অনেক সময়ই ভেঙে গেছে উত্তাল বিক্ষোভে। তখন মনে হয়েছে, যেন আমাদের সবার জন্য এটাই শেষ। তবু কোনো এক রহস্যময় মোড়ে পরিস্থিতি বদলে যেত, আর বেইলি রোড আবার ফিরে পেত তার শান্ত সৌন্দর্য।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘আমার একমাত্র আক্ষেপ যে গত তেরো মাসে আমি রমনা পার্কে যথেষ্ট সময় নিয়ে যেতে পারিনি। এ ছাড়া অন্য মানুষদের মতো রমনায় সকালবেলার হাঁটাহাঁটি করা, কিংবা হাসি-আড্ডায় মেতে থাকা দলগুলোর সঙ্গেও যোগ দিতে পারিনি আমি। তবু আমি আর আমার স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই রাস্তার ধারে সকালে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতাম। যদিও সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সেই ছোট ছোট দোকানগুলো সরিয়ে দিয়েছে।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘বিদায়, বেইলি রোড। তুমি উপর থেকে শান্ত ছিলে। কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিলে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরোপ্রধান শফিকুল আলম। প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন শেষে শফিকুল আলম ফিরে গেছেন তার পূর্বের পেশা সাংবাদিকতায়। বর্তমানে তিনি দ্য ডেইলি ওয়াদা নামের একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।



ফেসবুক কর্নার