
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটসহ বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তাদের দাবি, বোতলের গায়ে মুদ্রিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ১৮৯ টাকা থাকলেও বাজারে ১ লিটার বোতলজাত তেল ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
রোববার ও সোমবার (১৫ ও ১৬ মার্চ) স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, বসুন্ধরা, তীর, ফ্রেশসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এক ভোক্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, অতিরিক্ত এই লাভ আসলে কার পকেটে যাচ্ছে। স্থানীয় কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যরাও জানান, গত ঈদের সময়ও তারা গরিব-দুঃখীদের মাঝে খাদ্য বিতরণের জন্য তেল কিনতে গিয়ে বোতলের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এক বছর পার হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষেরা জানান, নির্ধারিত দামে বোতলজাত তেল না পাওয়ায় তারা অনেক সময় খোলা তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। জাজিরার এক ভ্যানচালক মো. আফসার উদ্দিন বলেন, “বোতলজাত তেলের গায়ে যে দাম লেখা থাকে, সেই দামে বাজারে পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনে খেতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় ভেজাল বা মিশ্রিত তেলের ঝুঁকিও থাকে।”
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা হলে তারা মূল্যসংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শরীয়তপুর জেলা ভোক্তা অধিকার কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বাজারে সয়াবিন তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।