June 29, 2026, 1:05 am
শিরোনাম :
লামায় সেগুন কাঠ পাচারের অভিযোগ: ডেপুটি রেঞ্জার ও বনকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দুলাভাই বাহিনীর এক সদস্য নিহত, আটক ৩ পাগলির মেলা: শত বছরের ঐতিহ্যে ইতিহাস, বিশ্বাস ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মিলন ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল নারীর, আহত আরও দুই নওগাঁর আম এবার যুক্তরাষ্ট্রে, বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার কালীগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কথিত ভিডিও ঘিরে আলোচনা, তদন্তের দাবি ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: গণধোলাই দিয়ে ধর্ষক পুলিশে সোপর্দ,  বিশেষ অভিযানে রামপালে যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার শ্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে অনশন, কেন্দুয়ায় আলোচনায় তরুণীর অবস্থান সীমান্তবর্তী দৌলতপুরে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য

জ্বালানিসংকটে স্থবির মোটরসাইকেল বাজার: এক বছরে বিক্রি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে

অতনু বিশ্বাস

দেশে জ্বালানিসংকট ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রভাবে মোটরসাইকেল বাজারে বড় ধরনের মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরবরাহ সীমিত করার ফলে নতুন মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ কমে গেছে ক্রেতাদের মধ্যে। একই সঙ্গে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, এলসি খোলার ব্যয় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে মোটরসাইকেল বিক্রি প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। গত বছর মার্চে যেখানে বিক্রি হয়েছিল ৫৬ হাজার ৪৮৬টি মোটরসাইকেল, সেখানে চলতি বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৮টিতে। বছরের প্রথম তিন মাসে সামগ্রিক বিক্রি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের মতে, এপ্রিল মাসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং বিক্রির হার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু নতুন মোটরসাইকেল বিক্রি নয়, সার্ভিসিং খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ের চাহিদা কমেছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।
এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের কোম্পানি সচিব এবং নিলয় মোটরস লিমিটেডের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা বিজয় কুমার মণ্ডল বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায়—বিশেষ করে রংপুর, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, বগুড়া ও চট্টগ্রামে—হিরো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জ্বালানিসংকটের কারণে এসব অঞ্চলে বিক্রি ২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এপ্রিল মাসে আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া তেলের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানো এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে বাজারে চাহিদা আরও কমে গেছে।
তবে এই সংকটকে সাময়িক বলেই মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং তেলের দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে এলে বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। সামনে পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন ছাড় ও ক্যাশব্যাক অফারের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে বিক্রেতাদের। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোটরসাইকেল বাজারে পুনরায় গতি ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



ফেসবুক কর্নার