
দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক হয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী-চিলমারী নৌপথে ফেরি চলাচল। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে নদীর গভীরতা অনুকূলে থাকায় নির্বিঘ্নে চলাচল করছে ফেরি।
রৌমারীর ফলুয়ার চর ফেরিঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখন আর ফেরি কোথাও আটকে যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবে ঘাটে নোঙর করতে পারছে ফেরিগুলো। এতে স্বস্তি ফিরেছে পণ্যবাহী ট্রাক চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে।
ফেরি ‘কুঞ্জলতা’ ও ‘কদম’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম জানান, বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি রাখা হয়নি। ঘাটে ট্রাক বা মালবাহী যানবাহন এলেই ফেরি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে চালক ও ব্যবসায়ীদের অযথা অপেক্ষা করতে না হয়।
ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ ট্রাক চালক আব্দুল কামাল ও রফিক বলেন, এই রুট সচল হওয়ায় তাদের প্রায় ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে না। এতে সময়, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় অনেকটাই কমে এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রৌমারী-চিলমারী নৌপথ সচল হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি ফিরে আসবে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যয় কমে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে নৌপথ সচল রাখতে নিয়মিত নদী খনন বা ড্রেজিং কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন ঘাট সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সাময়িক স্বস্তিকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে নাব্যতা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।