
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মিলছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
বিদ্যুতের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। হাসপাতালে জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে, ফ্রিজ সচল না থাকায় ওষুধ সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বেচাকেনা কমে গেছে, দোকান চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
কাপড় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদকে সামনে রেখে ভালো বিক্রির আশা থাকলেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্রেতা কমে গেছে।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর হাটেও। গরমে পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম কষ্টে পড়ছেন। গরু বিক্রেতা আলতাফ হোসেন বলেন, “অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুৎ না থাকায় হাটে পরিবেশ খারাপ ছিল। কাঙ্ক্ষিত দামে গরু বিক্রি করতে পারিনি।”
এদিকে ঈদের সময় কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজে মাংস রাখা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
রৌমারী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ইন্সপেক্টর লোকমান হাকিম জানান, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘাটতির কারণে রোটেশন করেও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
রৌমারীবাসীর দাবি, ঈদকে সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়িয়ে লোডশেডিং কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।