
ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। উপজেলার প্রধান ও বৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রৌমারী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে।
ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। সকাল থেকেই মেঘলা আবহাওয়া থাকলেও তা উপেক্ষা করে মুসল্লিরা ঈদগাহ মাঠে সমবেত হন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
জামাতে ইমামতি করেন রৌমারী গ্রাম জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা মো. মাইদুল ইসলাম। নামাজ শেষে খুতবায় তিনি কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা, তাকওয়া ও ত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে ঈদগাহ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রতি বছর ঈদগাহ মাঠের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান সরকার শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার জামাতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এ সময় মুসল্লিরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জামাত সম্পন্ন হয়।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্থানীয় মুসল্লি মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, “কুরবানির এই শিক্ষা আমাদের ভেতরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করুক এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করুক।”
আরেক মুসল্লি মো. আতাউর রহমান সোনা বলেন, “ঈদের আনন্দ ধনী-গরিব সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
নামাজ শেষে মুসল্লিরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।