নোয়াখালীতে জমি বিরোধে বর্গাচাষীর ঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ, আহত ৬
নুশরাত রুমু,নোয়াখালি প্রতিনিধ
Update Time :
Wednesday, June 3, 2026
/
14 Time View
/
Share
????????????
নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বর্গাচাষীর বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গর্ভবতী নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগী নাইমুর রহমান ওরফে মিতুল সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গত রোববার (৩১ মে) বিকেলে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় চারজনকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন বর্গাচাষী জাহাঙ্গীর আলম (৫৫), তার গর্ভবতী মেয়ে শারমিন আক্তার (২৭), মেয়ের জামাই মো. রুবেল (২৯) এবং জমির মালিক নাইমুর রহমান ওরফে মিতুল (৩৯)। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বর্গাচাষী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, বিকেল চারটার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য ছায়েদুল হক, আলমগীর হোসেন ও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তিনটি বসতঘরে ভাঙচুর করে, টিনের বেড়া কেটে ফেলে এবং বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা একটি ঘরে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয় এবং আরেকটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করে। হামলার সময় ঘরের ভেতরে থাকা দুই বছরের এক শিশুকে তোষকসহ পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। একই সময়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মালিক নাইমুর রহমান ওরফে মিতুল বলেন, এওজবালিয়া মৌজার কয়েকটি দাগভুক্ত জমির বৈধ মালিক ও দখলদার তারা। রবিবার বিকেলে নিজেদের জমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে আড়া কান্দি নির্মাণের কাজ চলাকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একটি দল হামলা চালায়।
তার অভিযোগ, হামলাকারীরা তিনটি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি একটি ঘর সম্পূর্ণ এবং আরেকটি ঘর আংশিক পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া গরুর খামার থেকে তিনটি গরু, ১৬ বস্তা সয়াবিন এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সেভেটরেও আগুন দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ছায়েদুল হক। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমিতে মিতুলদের কোনো মালিকানা নেই। জমি বিক্রির পরও তারা মালিকানা দাবি করছেন। বরং প্রতিপক্ষই তাদের লোকজন ও বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী সদর মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।