April 24, 2026, 6:27 am
শিরোনাম :
শিবপুরে প্রাইভেট পড়াতে অস্বীকৃতি: শিক্ষকের ওপর হামলা, আটক ২ দোয়ারাবাজারে মাদকসহ আটক মামুন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড ধামইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৬৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ও ধ্বংস কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন, সপ্তাহজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি তীব্র গরমে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ালেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মাহমুদ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা তাপস্বীর পাশে জেলা পরিষদ বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিন আজ

Reporter Name

প্রতিবেদন রায়হান শেখ,
আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিন।
বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার রক্ষার আজীবন সংগ্রামী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন ছিলেন তিনি। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, মানবিক অবস্থান ও আপসহীন রাজনৈতিক সাহস আজও জাতির অনুপ্রেরণার উৎস।
১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন ভাসানী। শৈশবে ‘চেগা মিয়া’ নামে পরিচিত এই শিশুটি বড় হয়ে হয়ে ওঠেন উপমহাদেশের সংগ্রামী রাজনীতির প্রতীক। ধর্মচিন্তা, সত্যনিষ্ঠা ও ন্যায়বোধ তাঁকে জীবনসংগ্রামে আলাদা পরিচিতি দেয়।
১৯০৭ সালে ভারতের দেওবন্দে ইসলামি শিক্ষালাভ শেষে তিনি আসামে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ভাষণ তাঁর রাজনৈতিক চেতনায় নতুন দিশা এনে দেয়। পরের বছর কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং কারাবরণ করেন। কৃষক-প্রজা আন্দোলনে নেতৃত্ব এবং ১৯২৯ সালের ঐতিহাসিক ভাসানচর সম্মেলনের পর তাঁর নামের শেষে ‘ভাসানী’ যুক্ত হয়।
বাংলা ভাষা আন্দোলনে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে অবজ্ঞা করার প্রতিবাদে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী দশকগুলোর গণআন্দোলন—১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৮ সালের আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর নেতৃত্ব ছিল উজ্জ্বল।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
১৯৭৬ সালে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে ইতিহাসখ্যাত লংমার্চ তাঁর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক হয়ে আছে। একই বছরের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁকে সন্তোষে সমাহিত করা হয়।
ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন।
বাংলার রাজনীতিতে মওলানা ভাসানী আজও সততা, সংগ্রাম ও মানবতার অম্লান প্রতীক



ফেসবুক কর্নার