August 4, 2026, 2:11 pm
শিরোনাম :
ফিরে দেখা ৩৫ জুলাই ‘মার্চ টু ঢাকা’ একদিন এগিয়ে, গণঅভ্যুত্থানের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ লাইসেন্সহীন সিএনজির দৌরাত্ম্য, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও অপরাধ রোমান্টিক ছবির সঙ্গে কী বার্তা দিলেন দেব-শুভশ্রী? ভারত থেকে আমদানিতে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকের বেশি কমেছে ইয়াবাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম সফরে হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সানি লিওনকে কাস্ট করা ছিল কাকতালীয় ঘটনা’—মহেশ ভাট প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, এলাকায় চাঞ্চল্য কুমারখালীতে চক্ষু হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অনিয়মের অভিযোগ ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, পাঁচ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

২য় বিয়েতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

অভয়নগর প্রতিবেদক

পুরুষের জন্য ‍দ্বিতীয় বিয়ে মুসলিম আইনানুযায়ী জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিলো গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার  লঙ্ঘন। কিন্তু সম্প্রতি হাইকোর্টের এক রায়ে পাল্টে যেতে যাচ্ছে বহুদিন ধরে চলে আসা এই রীতি। এবার স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে, ঠিক এমনই এক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে।

২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর। সেক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়। এতদিন প্রচলিত ছিলো, স্ত্রী বা প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। আদালত বলেন, এ বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।

এ রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিলের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্তে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। তাদের দাবি, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রিট করা হয়েছিল।

সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, আর্থিক সক্ষমতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভন থেকে বহু পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করার ঝুঁকি থাকে। ফলে সমাজে অসাম্য ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।

আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল বিভাগে এই মামলা গড়ালে তা আইন ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে এবং ভবিষ্যতে মুসলিম পারিবারিক আইনের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে হয়।



ফেসবুক কর্নার