May 14, 2026, 6:23 pm
শিরোনাম :
ধামরাই সরকারি কলেজে ইউনিফর্ম পরে টিকটক নিষিদ্ধ, জারি সতর্কতা নোয়াখালীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা নেত্রকোনায় কন্যাকে নির্যাতনের অভিযোগে পিতা গ্রেপ্তার, অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী উদ্ধার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এ মান্দার শিক্ষার্থীদের সাফল্যে সংবর্ধনা ইবিতে গ্রীন ভয়েসের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ জাককানইবির নতুন উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান মুকসুদপুরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পরিচালক খয়ের উদ্দিন মোল্লা উপবন এক্সপ্রেসের টয়লেট থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ

জীবন সংগ্রামে টিকে আছে ময়না বেগম: পিঠার আয়ে সংসার চালানো নারী উদ্যোক্তা

অভয়নগর প্রতিবেদক

ময়না বেগম জীবনকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন। ৪২ বছর বয়সী এই নারী প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিজের ঝুপড়ি ঘর থেকে পিঠা তৈরি ও বিক্রি করে চলেন, যা দিয়ে চলে তার সংসার, মেয়েদের পড়াশোনা ও চিকিৎসা খরচ।
ময়না বেগম মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের কচুবুনিয়া এলাকার মো: আবুল হোসেনের স্ত্রী। ছোটবেলা থেকেই তিনি অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেছেন। টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারেননি। শৈশবেই বিয়ে দেন তার পরিবার, তারপর বিয়েও হয় আরেক অভাবের সংসারে। চার মেয়ে নিয়ে আজও তিনি জীবনের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় দুই মেয়ে মুন্নি (১৮) ও জুঁই (১৭) বিবাহিত, আর ছোট দুই মেয়ে আকলিমা (৮) ও তাসলিমা (৭) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।
ময়না বেগম বলেন, “২২ বছর আগে বিয়ে হওয়ার পর থেকে জীবনের প্রয়োজনের তাগিদে বের হয়ে পড়েছি কর্মের সন্ধানে। দুই স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সমাজের কারো কাছে হাত পাতিনি।”
তিনি প্রতিদিন চিতই ও তেলের পিঠা তৈরি করে ১০ টাকায় বিক্রি করেন। শীতকালে চাহিদা বাড়লেও বাজারে বর্তমানে বেশী দোকান থাকায় প্রতিদিন মাত্র ৪–৫ কেজি পিঠা বিক্রি করতে পারছেন। এর ফলে সংসার খরচ ও মেয়েদের পড়াশোনার জন্য উপার্জন যথেষ্ট হয় না। পূর্বে তিনি প্রতিদিন ৮–১০ কেজি পিঠা বিক্রি করতেন, যা থেকে দৈনিক ৩০০–৪০০ টাকা আয় হতো।
ময়না বেগম তৎকালীন সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন, যা তার একমাত্র নিজের জায়গা। জমি বা অন্যান্য সম্পদ নেই। তিনি বলেন, “এই ঘরটাই আমার সম্বল। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সংগ্রামই আমাকে শক্তিশালী করেছে।”
ময়না বেগমের উদ্যম ও সংগ্রাম প্রমাণ করে, নির্দিষ্ট দক্ষতা ও পরিশ্রম থাকলেই জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, এমনকি সব অভাব-অনটনের মধ্যে থেকেও।



ফেসবুক কর্নার