
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক সমাজ আজ সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার। সত্য তুলে ধরাই যদি অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তবে রাষ্ট্র কোন পথে এগোচ্ছে—এই প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে সামনে এসেছে। ক্রাইম রিপোর্টার সাংবাদিক মোঃ ইয়াকুব আলীর ওপর সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, দেশে সত্য প্রকাশের মূল্য দিতে হচ্ছে জীবন দিয়ে। অপরাধ, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরলেই একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল সাংবাদিকদের শত্রু মনে করছে এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা, হুমকি ও নিপীড়নের মাধ্যমে কণ্ঠরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে, দেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রশ্ন উঠছে, সাংবাদিকেরা কি তবে নিরাপত্তাহীনতার মাঝেই দায়িত্ব পালন করবে? অপরাধীদের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরার শাস্তি কি এভাবেই রক্ত দিয়ে দিতে হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর না খুঁজলে ভবিষ্যতে সত্য প্রকাশ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
অবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, নইলে একদিন সত্য বলার মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, নীরবতাই হয়ে উঠবে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। সাংবাদিকদের কলম থামানো যাবে না—কারণ সত্য কখনো হত্যা করা যায় না।