ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম টিম কতৃক উদ্ধার হয়েছে বাংলাদেশী যুবক। আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্রের হাতে পাচার হওয়া এক বাংলাদেশি যুবককে ইন্টারপোলের সহায়তায় উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। উদ্ধারকৃত যুবকের নাম জুয়েল মিয়া (২৫)। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের মো. বাবুল বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র ইউরোপে লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে জুয়েল মিয়ার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নেয়। গত ৯ এপ্রিল ২০২৫ সালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তাকে থাইল্যান্ড হয়ে কম্বোডিয়ায় পাচার করা হয়। সেখানে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী ও’স্মাচ এলাকায় তাকে আটক রেখে বিনা পারিশ্রমিকে জোরপূর্বক অনৈতিক শ্রমে বাধ্য করা হয় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়।
পরবর্তীতে সাম্প্রতিক সীমান্ত যুদ্ধের সুযোগে পালিয়ে রাজধানী নমপেনে আশ্রয় নেন ভিকটিম। বিষয়টি জানতে পেরে তার বোন মোছা. রুমা খাতুন আদালতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় ঝিনাইদহ ডিবি।
পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজালের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির একটি টিম বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোল ও কম্বোডিয়া পুলিশের সাথে সমন্বয় করে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ সালে কম্বোডিয়া পুলিশ তাকে থাই এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে পাঠায়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডিবি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ নিয়ে আসে।
আজ ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভিকটিম জুয়েল মিয়া আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। এ ঘটনায় জড়িত আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।