March 7, 2026, 11:31 am
শিরোনাম :
বদরের চেতনায় লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বান এমপি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর মোকামতলায় নতুন কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: শিক্ষার প্রসারে প্রতিশ্রুতি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের যে ভুলে বন্ধ হবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথ, সতর্কতা জারি ফাইনালের আগে ‘অপয়া’ হোটেল বদলাল ভারত ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট বাতিল ইকরার নেশা ও গোপন বাসর ফাঁস, আলভীর বিস্ফোরক অভিযোগ কাউখালীতে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলের হামলা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ডাকসু নেতা সর্বমিত্রের ফেসবুক স্ট্যাটাস জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানোর অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে এইচআইভি

অভয়নগর প্রতিবেদক

বাংলাদেশে সাধারণ জনগণের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার এখনো শূন্য দশমিক ০১ শতাংশের নিচে থাকলেও সমকামী যৌনসম্পর্কে জড়িত ব্যক্তি, অভিবাসী এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের মতো মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে এইচআইভি/এইডস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে বৈশ্বিক এইডস চিকিৎসাসেবাপ্রতিষ্ঠান ‘এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) বাংলাদেশ’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে এএইচএফ-এর এশিয়া ব্যুরোর উপপ্রধান ড. ইউগাগান বাও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১৭ হাজার ৪৮০ জন মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন, যাদের বড় একটি অংশ নতুন সংক্রমণের শিকার। সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে, এরপরেই রয়েছে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণরা।

তিনি জানান, গত এক বছরে দেশব্যাপী ১ হাজার ৮৯১টি নতুন এইচআইভি কেস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২১৭টি পাওয়া গেছে রোহিঙ্গা (এফডিএমএন) জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এইচআইভি প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবায় বিদ্যমান ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরে।

ড. ইউগাগান বাও আরও বলেন, এইচআইভি নির্ণয় ও চিকিৎসা কভারেজে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও সেবায় প্রবেশাধিকার এখনো সমান নয়। বর্তমানে সারা দেশে মাত্র ২৩টি জেলায় এইচআইভি পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। কুসংস্কার, বৈষম্য এবং সীমিত জনসচেতনতা এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ও অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে এএইচএফ জাতীয় পর্যায়ে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে কাজ করবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে এএইচএফ-এর এশিয়া ব্যুরোর উপস্থিতি এখন ১১টি দেশে বিস্তৃত হলো। উল্লেখ্য, এশিয়ায় সংস্থাটির প্রথম কর্মসূচি শুরু হয়েছিল ভারতে, ২০০৪ সালে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এনএএসসি)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ শহীদুল হক। বিশেষ বক্তব্য রাখেন ইউএনএআইডস-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সায়মা হক এবং এএইচএফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আক্তার জাহান শিল্পী।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং এইচআইভি নিয়ে কাজ করা দেশি ও বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) একটি বৈশ্বিক অলাভজনক সংস্থা, যা আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক ও ইউরোপের ৫০টি দেশে ২৮ লাখেরও বেশি মানুষকে এইচআইভি/এইডস চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করছে। বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অলাভজনক এইচআইভি/এইডস চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থা।



ফেসবুক কর্নার