March 6, 2026, 6:02 am
শিরোনাম :
জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা, আইনজীবী স্বামী আটক মাগুরায় আওয়ামীলীগ কার্যালয় সামনে পতাকা উত্তোলন আগুন ও ভাংচুর, আটক ৩ কুড়িগ্রামে নয় বছর ধরে ভাঙা ব্রিজ, যাতায়াতে আতঙ্কে ২০ হাজার মানুষ সরিষাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার রমজানকে ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার: রামপালে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা আরও এক দেশে সরকার পরিবর্তনের হুমকি ট্রাম্পের আনোয়ারায় গ্যাস সংকটে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ একযোগে রাশিয়ার ৪ যুদ্ধজাহাজে ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ৫ দিন ধরে ইন্টারনেট নেই ইরানে

সাতক্ষীরা-৩ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ডা. শহিদুল আলমের সমর্থকদের বিক্ষোভ সমাবেশ

Reporter Name

হাফিজুর রহমান, কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা–৩ (কালীগঞ্জ–আশাশুনি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ লাগাতার কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। টানা ১৭ দিনের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) কালীগঞ্জের সরওয়ার্দী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন মনোনয়ন বঞ্চিত ডা. শহিদুল আলমের অনুসারীরা।
বিএনপি গত ২ নভেম্বর ২৩৭ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। ঘোষণার পর থেকেই সাতক্ষীরা–৩ আসনে প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনকে বাতিল করে ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে মনোনয়ন পাওয়া কাজী আলাউদ্দিনও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে করে কালীগঞ্জ ও আশাশুনি বিএনপির নেতা–কর্মীরা স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন এবং চলমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষেরও ভোগান্তি বাড়ছে।
মঙ্গলবার সকালে কাজী আলাউদ্দিন ঢাকায় ডা. শহিদুল আলমের বাসায় গিয়ে দেখা করার চেষ্টা করেন। কাজী আলাউদ্দিন জানান, মনোনয়ন না পাওয়া ডা. শহিদুল আলমের সঙ্গে আলোচনা ও ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু দেখা না পেয়ে ফিরে আসেন।
এ বিষয়ে সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ডা. শহিদুল আলমের স্ত্রী অসুস্থ থাকায় সে সময় দেখা করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কাজী আলাউদ্দিনের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির বাসার ভেতরে ঢুকে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় নেতাকর্মীরা। তারা কাজী আলাউদ্দিনকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং তাঁকে কালীগঞ্জ–আশাশুনি এলাকায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।
সমাবেশে হাজারো নারী–পুরুষ, নেতাকর্মী ও অনুসারীরা স্লোগান দিতে দিতে সরওয়ার্দী পার্কে এসে উপস্থিত হন। বক্তারা বলেন, দলমত–ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে ডা. শহিদুল আলম এই অঞ্চলে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতা। দীর্ঘদিনের আন্দোলন–সংগ্রামে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন এবং চিকিৎসাসেবায় ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। তাই তাঁর মনোনয়ন দাবি তারা দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে কেউ ঘরে ফিরবেন না। প্রয়োজনে দল কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও তারা সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ নুরুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, নলতা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আজিজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল সেলিম, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সেলিম হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন সোহেল, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব পারভেজ হোসেনসহ কালীগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশ শেষে আজ আবারও লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।



ফেসবুক কর্নার