
আরও একবার তীরে এসে তরী ডুবল নিউজিল্যান্ডের। ব্ল্যাক ক্যাপসদের হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজীর গড়ল ভারত। ফাইনালে আজ প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে বিশাল ২৫৫ রান। এরপর নিউজিল্যান্ডকে গুটিয়ে দেয় মাত্র ১৫৯ রানে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একপেশে খেলেই জয়ের স্বাদ পায় টিম ইন্ডিয়া।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে পাঁচটি বড় রেকর্ড গড়েছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা আগে কখনো হয়নি। প্রথম রেকর্ডটা সবচেয়ে বড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তিনবার জেতা প্রথম দল এখন ভারত। এর আগে তারা শিরোপা জিতেছিল ২০০৭ এবং ২০২৪ সালে। এবারও ট্রফি জিতে নতুন ইতিহাস লিখল দলটি। এর আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুটি করে শিরোপা জিতেছিল।
দ্বিতীয়ত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগে কোনো দল টানা দুই আসরে শিরোপা জিততে পারেনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অস্থিরতা এমনই যে চ্যাম্পিয়নরা পরের আসরে সাধারণত সেমিফাইনালের বেশি যেতে পারেনি। কিন্তু ভারত সেই ধারা ভেঙে দিয়েছে। ২০২৪ সালে শিরোপা জয়ের পর ২০২৬ সালেও ট্রফি ধরে রেখে প্রথমবারের মতো টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছে তারা।
তৃতীয়ত, নিজেদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দল এখন ভারত। এর আগে অনেক দেশ নিজ দেশে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেও কেউ শিরোপা তুলতে পারেনি। সেরা সাফল্য ছিল রানার্সআপ, ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা নিজেদের মাটিতে ফাইনাল খেলেও জিততে পারেনি। ভারত সেই অপেক্ষা শেষ করল। ঘরের মাঠে ফাইনাল জিতে নতুন এক অধ্যায় লিখল তারা। মজার বিষয়, নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস ভারত আগেও লিখেছিল। ২০১১ সালে একদিনের বিশ্বকাপও জিতেছিল তারা নিজেদের দেশেই।
চতুর্থ রেকর্ডটা হলো সব ফরম্যাট মিলিয়ে এখন পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম এশীয়ার দল ভারত। তাদের আছে দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার। তারা মোট সাতবার বিশ্বকাপ জিতেছে। ছয়টি একদিনের আর একটি টি-টোয়েন্টি। এশিয়ার মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের আছে দুটি করে বিশ্বকাপ।
পঞ্চম রেকর্ডটাও বিরল। টানা তিন বছরে তিনটি আইসিসি ট্রফি জয়ী প্রথম দল এখন ভারত। ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পর আজ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও নিজেদের শোকেসে তুলল টিম ইন্ডিয়া। অর্থাৎ টানা তিন বছর ধরে বড় তিনটি টুর্নামেন্ট জিতে ক্রিকেটে নিজেদের দাপট অব্যাহত রাখল ভারত।